বিটিআরসির মাধ্যমে স্কাইপে সেবা বন্ধ করে ঘৃন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো সরকার : বিএনপি

সোমবার, নভেম্বর ১৯, ২০১৮

ঢাকা : বিএনপির সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) স্কাইপি বন্ধ করে দিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। সরকার নিয়ন্ত্রিত বিটিআরসি ইন্টারভিত্তিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্কাইপির সেবা বন্ধ করে দিয়ে এক ঘৃন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো। ইতোমধ্যে বিএনপি চেয়ারপার্সনের গুলশানস্থ কার্যালয়ে ইন্টারনেট ভিত্তিক সকল যোগাযোগ মাধ্যম বন্ধ হয়ে গেছে।
আজ রাত পৌন ১০টায় নয়াপল্টন দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন- নির্বাচন কমিশনের সচিব হেলালুদ্দিন বলেছেন- বিএনপি’র মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কিছু করার নেই। তার এই বক্তব্যের পরপরই সরকার নিয়ন্ত্রিত বিটিআরসি কর্তৃক স্কাইপি বন্ধ করে দেয়াতে আবারও প্রমানিত হলো-নির্বাচনী মাঠ আওয়ামী জোটের একচেটিয়া দখলে থাকবে। বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নমিনেশন প্রত্যাশীদের সাথে স্কাইপিতে কথা বলা নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন নয়। কমিশন সচিব এ বিষয়টি নিশ্চিত করার পরও তড়িঘড়ি করে বিটিআরসি-কে দিয়ে স্কাইপি বন্ধ করে দেয়া সরকারের নি¤œরুচির পরিচায়ক। সরকার আগামী জাতীয় নির্বাচনকে নিজেদের অনুকুলে নেয়ার জন্য ক্লান্তিহীনভাবে রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করছে। বিএনপি’র নির্বাচনী প্রক্রিয়ার তৎপরতাকে বাধা প্রদান করার জন্য সরকার সবধরনের শক্তি প্রয়োগ করছে।
রিজভী বলেন, গুলশানস্থ বিএনপি চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ে ইন্টার ভিত্তিক সকল যোগাযোগ মাধ্যম বন্ধ করতেই স্কাইপি বন্ধ করা হয়েছে। বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের আওয়াজ ভেসে উঠলেই সরকার মূর্ছা যায়, আর সেজন্যই দুর থেকে ভেসে আসা শব্দকেও আটকানোর জন্য উঠেপড়ে লাগে। আওয়ামী শাসকগোষ্ঠী সংকীর্ণ রাজনীতির বলয় থেকে কোনদিন বেরিয়ে আসতে পারবে না। সরকার ও সরকার প্রধান ভিন্ন মত, বিরোধী দল, বিরোধী কন্ঠস্বর নীরব করার জন্য সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। জনগণের নিরাভিমান আনুগত্যই শেখ হাসিনার কাম্য। যতদিন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকবে ততদিন গণতন্ত্রের ফাঁড়া কাটবে না এবং দেশ থেকে বিপদ দুর হবে না। সরকার কর্তৃক তারেক রহমানের কন্ঠের আওয়াজকে বাধা দেয়ার অর্থই হচ্ছে গণতন্ত্রের গলা টিপে ধরা। আর এজন্য স্কাইপি বন্ধ করা হয়েছে। আসলে সরকার বলপ্রয়োগ করেই ক্ষমতায় থাকতে চাচ্ছে, জনগণের সমর্থন নিয়ে নয়। আমি সরকারের এই ন্যাক্কারজনক সংকীর্ণ মানসিকতার ধিক্কার জানাই এবং অবিলম্বে ইন্টারভিত্তিক যোগাযোগ মাধ্যম স্কাইপি খুলে দেয়ার আহবান জানাচ্ছি।

এদিকে দেশের বিভিন্ন স্থানে দলের নেতাকর্মীদের গ্রেফতারের একটি চিত্রও তুলে ধরেন বিএনপির এই নেতা।

যশোর জেলা :
যশোর জেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি আবু বকর আবু বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র মনোনয়ন ফরম জমা দিয়ে আজ গুলশানস্থ বিএনপি চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ে সাক্ষাৎকার দেয়ার জন্য ঢাকার একটি হোটেলে অবস্থান করছিলেন। কিন্তু গতরাত থেকে তাকে কোথাও পাওয়া যাচ্ছে না। এ নিয়ে তার পরিবার-পরিজন গভীরভাবে উৎকন্ঠিত। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীই তাকে আটক করেছে।

ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ :
ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সদস্য আব্বাসকে গত তিন ধরে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তাকে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীই আটক করেছে। কিন্তু তাকে আটকের বিষয়টি স্বীকার করছে না তারা।
ঢাকা মহানগর পশ্চিম :
৩০ নং ওয়ার্ড সুনিবিড় হাউজিং ইউনিট ছাত্রদলের সভাপতি মো: হোসেনকে গত ১৭ নভেম্বর ২০১৮ তারিখ থেকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। আইন শৃঙ্খলা বাহিনী তাকে আটক করলেও আটকের বিষয়টি স্বীকার করছে না।
ঢাকা মহানগর উত্তর :
আইন শৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ঢাকা মহানগর উত্তরের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম রবিনকে আটক করা হলেও তারা স্বীকার করছে না।
তিতুমির কলেজ :
জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল তিতুমির কলেজ শাখার সহ-সভাপতি মাহবুবুল আলমকে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী গ্রেফতার করেছে, অথচ এখনও স্বীকার করেনি।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় :
জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল জগন্নাথ বিশ^বিদ্যালয় শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন উজ্জলকে গ্রেফতার করেছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। কিন্তু তারা তাকে আটকের কথা স্বীকার করছে না। তিনি উল্লিখিত নেতৃবৃন্দকে অবিলম্বে জনসমক্ষে হাজির করার জোর দাবি জানান।

খুলনা জেলা :
গত ১৪ নভেম্বর ২০১৮ নয়াপল্টনস্থ বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নীচে নেতাকর্মীদের ওপর পুলিশের বর্বরোচিত হামলার পর সেদিন থেকেই কয়রা উপজেলা বিএনপি কর্মী শাহীনুর আলমকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীই তাকে আটক করেছে। কিন্তু তারা সেটি স্বীকার করছে না।
আইন শৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক আটককৃত সকল নেতাকর্মী যাদেরকে আটকের কথা স্বীকার করা হচ্ছে না তাদেরকে অবিলম্বে জনসমক্ষে হাজির করার জন্য জোর দাবী জানাচ্ছি।

বাগেরহাট জেলা :
মোড়লগঞ্জ থানা বিএনপি’র সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্ম কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ইব্রাহিম হোসেনকে গত ১৭ নভেম্বর ২০১৮ রাতে গ্রেফতার করার পর তাকে আটকের বিষয়টি তিন দিন যাবৎ স্বীকার করেনি আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। তার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা দায়ের করে গতকাল আদালতের মাধ্যমে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।
ইব্রাহিম হোসেন এর বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও রিমান্ড বাতিল করে আমি তার নি:শর্ত মুক্তির জোর দাবি জানান রুহুল কবির রিজভী আহমেদ।