নিপুণ-রুমা সহ সাতজন রিমান্ডে

শুক্রবার, নভেম্বর ১৬, ২০১৮

ঢাকা : নয়াপল্টনে সংঘর্ষের মামলায় বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরীসহ সাতজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিন করে রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ।

শুক্রবার পুলিশের দশ দিনের রিমান্ড আবেদনের শুনানি করে ঢাকার মহানগর হাকিম সত্যব্রত শিকদার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

অ্যাডভোকেট নিপুণ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর রায়ের পুত্রবধূ এবং সাবেক প্রতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর মেয়ে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় নাইটিঙ্গেল মোড় থেকে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।

বাকি ছয়জন হলেন- ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদক আরিফা সুলতানা রুমা, রাজধানীর খিলক্ষেত থানা বিএনপির সভাপতি ইউসুফ মৃধা, কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার যুবদল নেতা আবুল হাশিম সবুজ, বরগুনার তালতলী উপজেলার বিএনপি নেতা আমির হোসেন এবং বিএনপি কর্মী মো. মহসিন ও মো. মামুনুর রশিদ খোকন।

আদালত পুলিশের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা এস আই জালালউদ্দিন আহমেদ জানান, বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির কয়েকটি ধারায় দায়ের করা পল্টন থানার একটি মামলায় তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

আদালতে রিমান্ড শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর সালমা হাই টুনি বলেন, “পল্টনে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনার পরিকল্পনাকারী কারা ছিল, তা জানতে আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা জরুরি।”

অন্যদিকে বিবাদীপক্ষে অ্যাডভোকেট নিপুণের বাবা আইনজীবী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, “আমার মক্কেলরা কোনোভাবেই ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের সঙ্গে জড়িত নয়। সরকার নিজেরা এসব করে তাদের ঘাড়ে দায় চাপিয়ে দিয়েছে।”

বিএনপি নেতাকর্মীদের পক্ষে নিতাই রায় চৌধুরী, সানাউল্লাহ মিয়াসহ প্রায় ৩০ জন আইনজীবী আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

নির্বাচন সামনে রেখে মনোনয়ন ফরম বিক্রির কার্যক্রমের মধ্যে বুধবার দুপুরে ঢাকার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পুলিশের সঙ্গে দলটির নেতাকর্মীদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এ সময় পুলিশের দুটি গড়ি অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।

হেলমেট পরা কয়েকজনকে ভাংচুর-অগ্নিসংযোগে অংশ নিতে দেখা যায়। পুলিশ বলছে, তারা সবাই বিএনপির কর্মী, যদিও বিএনপি তা অস্বীকার করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কর্মীদের দায়ী করেছে।

সংঘর্ষের ওই ঘটনায় পল্টন থানা পুলিশের পক্ষ থেকে তিনটি মামলা হয়, তার তিনটিতেই নিপুণসহ বিএনপির বেশ কয়েকজন সিনিয়র নেতাকে আসামি করা হয়।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, তার স্ত্রী ও জাতীয় মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত মেজর আকতারুজ্জামান, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কফিল উদ্দিন, হাবিবুর রশিদ হাবিব, যাত্রাবাড়ী থানার সভাপতি নবীউল্লাহ নবীসহ প্রায় দুশজনেকে রাখা হয়েছে আসামির তালিকায়।