সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের ব্যাংকে ধরনা

মঙ্গলবার, নভেম্বর ১৩, ২০১৮

ঢাকা: নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুসারে ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচনে আগ্রহী প্রার্থীরা এখন ব্যাংকে ব্যাংকে ধরনা দিচ্ছেন। কোনো ব্যাংকের ঋণখেলাপি কিনা, তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন। ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো থেকে সংগ্রহ করছেন রিপোর্ট। অনেকে বিশেষ ছাড়ে তাদের ঋণ নবায়ন করে নিচ্ছেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকও বিশেষ ছাড়ে দেদার অনুমোদন দিচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও বিভিন্ন ব্যাংক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

বিভিন্ন দলের মনোনয়ন পেতে আগ্রহীরা এরই মধ্যে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। প্রায় সব দল মনোনয়ন আবেদন ফরম বিতরণ শুরু করেছে। আগামী ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত মনোনয়ন জমা নেবে নির্বাচন কমিশন। কোনো ঋণখেলাপি নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন না। নিয়ম অনুসারে মনোনয়ন জমা দেওয়ার কমপক্ষে ৭ দিন আগে বকেয়া ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে হবে। প্রার্থিতা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবি সনদ নিতে হবে। ঋণখেলাপি নন এমন সনদও থাকতে হবে। অটোমেটেড সিআইবি থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ ব্যাপারে খুব সহজে তথ্য দিতে পারবে। এরই মধ্যে গ্রাহকের ঋণের তথ্য হালানাগাদ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। প্রার্থী হতে ব্যাংকের দায় ঋণ পরিশোধ কিংবা পুনঃতফসিল করতে হবে।

রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, এরই মধ্যে গত তিন দিনে শতাধিক গ্রাহক যোগাযোগ করেছেন। এর আগে বেশকিছু গ্রাহক তাদের ঋণ নবায়ন করে নিয়ে গেছেন।

সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ এ বিষয়ে  বলেন, নির্বাচনকে ঋণ আদায়ের সুযোগ হিসেবে কাজে লাগাতে চায়। এতে খেলাপি ঋণ কমানোর সুযোগ রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি নতুন নির্দেশনা জারি করেছে। সে মোতাবেক কোনো ব্যক্তির যদি এক টাকাও ঋণ থাকে তার রিপোর্ট পাঠাতে হচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে। ফলে ছোট বড় আকারের যে ঋণই থাকুক না কেন, তা নিয়মিত করতে হবে। এবারই প্রথম ব্যাংকে যে কোনো পরিমাণের দায়ে আটকে যেতে পারে প্রার্থিতা।

জানা গেছে, ঋণখেলাপি আগ্রহীরা ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বোর্ডসভায় পুনঃতফসিল ও সুদ মওকুফ সুবিধা আদায় করে নিয়েছেন। যাদের খেলাপি ঋণ কম, তারা সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের কাছ থেকে পার পেয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু যাদের শত শত কোটি টাকা খেলাপি রয়েছে ব্যাংকের কাছ থেকে সুবিধা নিতে হলে কমপক্ষে পাওনার ১৫ শতাংশ পরিশোধ করতে হবে। আগে এই সুবিধা একাধিকবার ভোগ করলে তাকে পরিশোধ করতে হবে কমপক্ষে ৫০ শতাংশ। কিন্তু এটি না করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে ধরনা দিচ্ছেন খেলাপিরা। প্রভাব খাটিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বোর্ডের মাধ্যমে মাত্র ১ বা ২ শতাংশ, কখনো নামমাত্র ডাউন পেমেন্টে ঋণ পুনঃতফসিলের অনুমোদন প্রস্তাব কেন্দ্রীয় ব্যাংকে পাঠানো হচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবিরের সঙ্গে দেখা করে ওই প্রস্তাব অনুমোদন করিয়ে নিচ্ছেন আগ্রহী এমপি প্রার্থীরা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র জানায়, প্রতিদিনই কোনো না কোনো আগ্রহী প্রার্থী গভর্নরের সঙ্গে দেখা করছেন। গভর্নরের কাছে অনুমোদন নেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা যেন দ্রুত অনুমোদন দেন, তার জন্য চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। বিভিন্ন ব্যাংকে খেলাপি ঋণ রয়েছে এমন অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তি এবার নির্বাচনের অংশগ্রহণের জন্য দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন।