লন্ডনে সন্মানসূচক “অধ্যাপক” পদে মনোনীত হলেন ডা.এনাম

রবিবার, নভেম্বর ১১, ২০১৮

জাহিন সিংহ, সাভার থেকে : দিন যাচ্ছে। সাফল্যের পালক যুক্ত হচ্ছে ডা.এনামুর রহমানের অভিজ্ঞতার ভান্ডারে। তাঁর নামের নামের আগে এবার যুক্ত হলো সন্মানসূচক ‘অধ্যাপক’ পদবী।স্বাস্থ্য সেবায় অবদান রাখায় যুক্তরাজ্যের লন্ডনের দ্য একাডেমিক ইউনিয়ন অক্সফোর্ড কাউন্সিল তাঁকে সন্মানসূচক “অধ্যাপক” পদে মনোনীত করেছে।এই অর্জনে মুগ্ধ সাভারবাসী। অভিনন্দন ‘অধ্যাপক’ ডা.এনাম ।

যিনি নিজেকে পরিণত করেছেন সাভারবাসীর জন্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আর্শিবাদ আর অনন্য এক উপহার হিসেবে। গত ৬ নভেম্বর ভিডিও কনফারেন্সে সাভারবাসীকে জানিয়েছেন আন্তরিক শুভেচ্ছা প্রধানমন্ত্রী।

সেই জায়গা থেকেই ঢাকা-১৯ আসনের সাংসদ ডা.এনামুর রহমান বিগত প্রায় ৫ বছরে দেখিয়েছেন রাজনীতির এক ভিন্নধারা। এসময় সাভার আশুলিয়ার তৈরি পোশাক শিল্প নিয়ে কেউ সাপ আর ওঝার খেলা খেলতে পারেনি। এক অর্থে গোটা শিল্পাঞ্চলের জন্যে সময়টি ছিলো স্বস্তি আর শান্তির। কেউ সাপ হয়ে যেমন দংশন করেনি আবার ওঝা হয়ে ঝাড়ঁতেও হয়নি।

কর্মমুখী পরিবেশে দেশের অর্থনীতির প্রাণ শক্তি এই তৈরি পোশাক শিল্পের সূচকটা ছিলো প্রবৃদ্ধির।শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী সাভার অধর চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় ও সাভার কলেজ হয়েছে সরকারি।

সাভার থানার রোড বলে পরিচিত আবুল কাশেম সন্দীপ সড়কটিতে এখন অন্তস্বত্বা কোন নারীকে রাস্তায় সন্তান প্রসবের ঝুঁকি নিতে হয়না। সটান যে যার মতো চলে যায় থানা, সাব রেজিষ্ট্রি অফিস, স্কুল কলেজ বা নদীর ওপরে থাকা এক খন্ড জমিতে।

দ্রুত সময়ের মধ্যে অতিক্রম করা যায় জিরাবো-বিশমাইল আর সিএন্ডবি – আশুলিয়া সড়কটি। সাভার পেয়েছে শতভাগ বিদ্যুত। বিরুলিয়া সেতু দুই যুগের বেশি অচলাবস্থা কাটিয়ে রূপ নিয়েছে বাস্তবে। সাভারে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্ধোধন করা হয়েছে চামড়া শিল্প নগরী।

এক নি:স্বাসে এমন হাজারটা উন্নয়নের কথা বলা যাবে। তবে বাঙালী বড়ই অকৃতজ্ঞ জাতি। এই জাতির চাওয়ার যেমন শেষ নেই তেমনি কি পেলো তা নিয়েও নেই কোন কৃতজ্ঞতাবোধ। এই জাতি জানে না সবুর কি জিনিস। এই জাতির মধ্যে জন্মগতভাবেই অস্থিরতা।বঙ্গবন্ধুর মতো বিশাল ব্যক্তিত্বের অধিকারী জাতির জনককে হত্যা করতেও হাত কাপেঁনি এই জাতির। বড়ই দুর্ভাগা জাতি।

মানুষে স্বভাবতই ভালো কাজগুলোর কদর খুব কমই করে। সচেষ্ট থাকে তাদের ছিদ্র অন্বেষনে। লন্ডনের দ্য একাডেমিক ইউনিয়ন অক্সফোর্ড কাউন্সিল যে সন্মানসূচক “অধ্যাপক” হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে তার মর্যাদাই অার ক’জনাই বা বুঝে!

ডা. এনাম বিসিএস ক্যাডারের সরকারি একজন কর্মকর্তা ছিলেন, খ্যাতনামা চিকিৎসক হিসেবে কত সহস্র মানুষকে সুস্থ্য করে তুলেছেন- তারই বা কৃতজ্ঞতা জানায় ক’জনা? তার সময়ে সরকারি কর্মকর্তাদের কেউ অপমান অপদস্ত হয়ে সাভার থেকে ইচ্ছাকৃত বদলী হয়ে যায়নি। বরং সকলকে আগলে রেখেছেন নিজের মমতা আর ভালোবাসা দিয়ে।

তার সময়ে সাভারবাসী ঘুমিয়েছে শান্তিতে। দল বা উপদলীয় কোন্দলে জেরে গোলাগুলির শব্দ আর এলাকা দখলের মহড়ায় মাঝ রাত্রিতে কোন শিশু ভয়ে আতঁকে ওঠেনি। চিৎকার করে মাকে জড়িয়ে ধরেনি।

যার চলাচলের পথে কেউ থমকে থাকেনি। অতিতের মতো সামনে পেছনে মোটরসাইকেল আর গাড়ির লাল বহর না রেখে ‘রাজাধিরাজদের’ অনুসরণ না করে যিনি পথে চলেছে নিরবে নিভৃতে।

কারো নিমন্ত্রন রক্ষা করতে গিয়ে উটকো ‘লাটবহরের’ কারনে বিপাকেও পড়তে হয়নি আমন্ত্রনকারীকে।সামনে পেছনে থাকেনি মোটর সাইকেলের তান্ডব। যদিও আজকের দিনে জনপ্রিয়তার নিক্তিতে এসব চলে। কারণ রাজনৈতিক সংস্কৃতি দ্রুত পাল্টানো-ও খুব কঠিন। সেখানে তার মাঝেই দেখা গেছে ভিন্নতা। দেখা গেছে দিন বদলের প্রকৃত সত্বাকেই ধারণ করতে।

সাভারবাসী অাগে দেখেনি ভূমিদস্যূ,চাঁদাবাজী, সন্ত্রাসী, টেন্ডারবাজী আর ঝুট সন্ত্রাসীদের বিশেষ কোন বাহিনী।রাজনীতির নামে দুর্বত্তায়ন- সেটাও দেখেনি সাভারবাসী। তার বিনয়, সভ্যতা আর ভব্যতা নিয়ে সমালোচনাকারীরাও ব্যয় করার জন্যে খুঁজে পাবে না একটি শব্দ।

শুধু মানুষকে ভালোবাসা, সহজে বিশ্বাস করা, বিনয়, সৌজন্যতাবোধ আর ভদ্রতাবোধই যার চরিত্রের অলংকার। রানা প্লাজা ধসে আহতদের পাশে দাঁড়িয়ে কুড়িয়েছেন দেশ বিদেশের অজস্র মানুষের সন্মান।

নষ্ট আর ভ্রষ্ট রাজনীতির অনুসারীরা অসৎ দৃষ্টি ভঙ্গিতে তার সমালোচনা করেও নীতি থেকে এক বিন্দু নড়াতে পারেনি আপনাকে।

স্থানীয় রাজনীতিতে ডা. এনাম এনেছেন নতুনত্ব। যার কারনে পেশীশক্তির দাপট ক্ষীণ হয়ে এসেছে। যারাই অপ-রাজনীতি করতে চেয়েছে তারাই পতিত হয়েছে আবর্জনা আর আস্তাকুড়ে।

সর্বশেষ লন্ডনের দ্য একাডেমিক ইউনিয়ন অক্সফোর্ড কাউন্সিল তাকে সন্মননা দেয়া হয়। এই অর্জন তিনি উৎসর্গ করেছেন প্রধামন্ত্রী শেখ হাসিনাকে।

একটি কথা বিনয়ের সাথে বলা যায়, রাজনীতির পথ অনেক বন্ধুর। এখানে শক্র মিত্র বলে কিছু নেই। নেই শেষ কথা বলে কোন শব্দ। হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ সন্তান জাতির বঙ্গবন্ধু মানুষ চিনতে ভুল করেছিলেন।

তাই মানুষ চিনতে হবে। চিনতে হবে কারা সুবিধাবাদী। কারা দ্রুত খোলস বদলে অভ্যস্ত। কারা নিবেদিত প্রাণ। আর সেই চেনাটা যত দ্রুত হবে ততই মঙ্গল। কারণ বন্ধুর বেশে কেউ এসে যাতে পেছনে ছুরিকাঘাত না করে সেই ভাবনাটাও জরুরী।

কারণ রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই। রাজনীতি বড়ই নির্মম। বড়ই বেদনাদায়ক। জয় হোক মানুষের। জয় হোক মানবিকতার। জয় হোক আদর্শের।