পেছানো হতে পারে সংসদ নির্বাচন

রবিবার, নভেম্বর ১১, ২০১৮

ঢাকা : সব দলকে নির্বাচনে আনতে সরকারবিরোধী বড় দুই জোটের দাবির প্রেক্ষিতে আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পেছানোর ঘোষণা আসতে পারে নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে। এই দুটি ফ্রন্টে ইসিতে নিবন্ধিত দলের সংখ্যা নেহায়েত কম নয়। তাই দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করা এসব দলের মতকে গুরুত্বের সাথেই দেখছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদাসহ অপর চার কমিশনারও।

রোববার দুটি ফ্রন্ট থেকে পৃথকভাবে নির্বাচন পেছানোর দাবি করা হলে সিইসি সোমবার এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবেন বলে জানিয়েছেন। ইসি সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, দুই ফ্রন্টের দাবি রক্ষায় নির্বাচন কমিশন ভোট পেছানোর সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। তবে ঐক্যফ্রন্টের দাবি অনুযায়ী তা একমাস পেছানোর সম্ভাবনা একেবারেই নেই। অপর রাজনৈতিক জোট যুক্তফ্রন্টের দাবির সাথে একমত হয়ে এক সপ্তাহ পেছানো হতে পারে।

বিভিন্ন ইস্যুতে মতবিরোধ দেখা দেয়ায় ঐক্যফ্রন্ট থেকে বিচ্ছিন্ন নেতারা যুক্তফ্রন্ট গঠন করলেও আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পেছানোর দাবিতে দুই ফ্রন্টের নেতারাই ঐক্যমত পোষণ করে নির্বাচন কমিশনে (ইসিতে) চিঠি দিয়েছেন। গতকাল রোববার দুই ফ্রন্টের প্রতিনিধিরা অভিন্ন এই দাবি লিখিতভাবে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে (সিইসি) জানান। তবে কমিশন এই বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি। সিইসি জানিয়েছেন নির্বাচন পেছানো হবে কীনা তা সোমবার জানানো হবে।

গত ৮ নভেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর এটিকে স্বাগত জানিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টিসহ বেশকিছু রাজনৈতিক দল। তবে তফসিলকে ‘সরকারের ইচ্ছার প্রতিফলন’ বলে অভিযোগ জানায় রাজপথের বিরোধী দল বিএনপিসহ ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন নবগঠিত রাজনৈতিক জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। যদিও শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে তারা। তবে সরকারবিরোধী এই জোটটি নির্বাচনের তারিখ একমাস পেছানোর আবেদন জানিয়েছে। আর সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ডা. এ কে এম বদরুদ্দোজার নেতৃত্বাধীন জোট যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন এক সপ্তাহ পেছানোর আবেদন জানিয়েছে। রোববার জোটগুলোর এ সংক্রান্ত চিঠিও পৌঁছেছে নির্বাচন কমিশনে।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, রোববার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে দাবি জানানোর পর বিকেলে নির্বাচন কমিশনের কাছে লিখিতভাবে সংসদ নির্বাচন এক মাস পেছানোর দাবি জানায় ড. কামাল হোসেনের নেত্ত্বৃাধীন বিএনপি নিয়ে গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আমলগীর স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত একটি চিঠি নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে জমা দিয়েছে ঐক্যফ্রন্ট। চিঠি জমা দেয়ার আগে বিএনপির প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান সাংবাদিকদের বলেন, ‘জাতীয় প্রেসসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে ঐক্যফ্রন্ট সংসদ নির্বাচন একমাস পেছানোর দাবি জানিয়েছিল। সেই দাবি আমরা লিখিতভাবে নির্বাচন কমিশনের কাছে দিতে এসেছি।’

এদিকে রোববার বিকালে ভোট গ্রহণের তারিখসহ মনোনয়নপত্র জমা, যাচাই-বাছাই ও প্রার্থীতা প্রত্যাহারের তারিখ পরিবর্তনের অনুরোধ জানিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে (সিইসি) চিঠি পাঠিয়েছেন যুক্তফ্রন্টের চেয়ারম্যান ও বিকল্পধারা বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী। বিকেল সাড়ে তিনটায় সিইসির কাছে বি চৌধুরীর চিঠি নিয়ে যান বিকল্পধারার সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার ওমর ফারুক, তার সঙ্গে ছিলেন বিকল্পধারার প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুর রউফ মান্নান, বিকল্প প্রমজীবী ধারার সভাপতি আইনুল হক ও প্রচার সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার শেখ মেসবাহ উদ্দিন জুন্নু।

যুক্তফ্রন্টের চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিলকে আমরা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছি। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী স্বল্প সময়ে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র গ্রহণ, যাচাই-বাছাই ও স্বাক্ষাৎকার গ্রহণ ইত্যাদি ব্যবস্থা গগ্রণ কঠিন হবে। দেশে সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে সৎ ও সুশীল প্রার্থীদের মনোনয়ন দেয়ার প্রয়োজনে আমরা মনে করি মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার তারিখ এক সপ্তাহ পিছিয়ে ১৯ নভেম্বরের পরিবর্তে ২৬ নভেম্বর করা হোক। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ২২ নভেম্বরের পরিবর্তে ২৯ নভেম্বর, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার ২৯ নভেম্বরের পরিবর্তে ৫ ডিসেম্বর করা হোক। অনুরূপাবে ভোটগ্রহণের তারিখ ২৩ ডিসেম্বরের পরিবর্তে ৩০ ডিসেম্বর করার প্রস্তাব করছি।’

ইসি সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ঐক্যফ্রন্ট ও যুক্তফ্রন্টের ভোট পেছানোর দাবি নিয়ে ভাবছে নির্বাচন কমিশন। সরকারবিরোধী বড় এই দুটি জোটে নিবন্ধিত দলের সংখ্যাও নেহায়েত কম নয়। যেকারণে তাদের দাবি গভীরভাবে পর্যালোচনা করে দেখা হচ্ছে। আজ সোমবার এবিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে। গতকাল প্রধান নির্বাচন কমিশনারও আজ সিদ্ধান্ত দেয়া হবে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে বেরিয়ে যাওয়ার মুখে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সিইসি নুরুল হুদা বলেন, আমরা সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে একটি সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চেয়েছিলাম। আমরা গনমাধ্যমের মাধ্যমে জানতে পেরেছি, সব রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ নেয়ার বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছে। তাদের কেউ কেউ নির্বাচন পেছানোর বিষয়ে ইসিতে চিঠিও দিয়েছে। আমরা সোমবার বসে নির্বাচন পেছানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে জানাব।

উল্লেখ্য, গত ৮ নভেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন সিইসি কে এম নুরুল হুদা। তফসিল অনুযায়ী আগামী ২৩ ডিসেম্বর এই নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহীদের মনোনয়নপত্র গ্রহণের শেষ তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে ১৯ নভেম্বর।