আ.লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ২

শনিবার, নভেম্বর ১০, ২০১৮

ঢাকা : রাজধানীর মোহাম্মদপুরের আদাবরে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসময় আরিফ (১৫) ও সুজন (১৭) নামে দুই কিশোরের মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার সকালে ( ১০ নভেম্বর) আদাবরের নবোদয় হাউজিং এলাকায় সংঘর্ষের এ ঘটনা ঘটে। এতে দুইপক্ষের অন্তত দেড়শজন আহত হয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একটি পিকআপে করে আসা বেশ কিছু তরুণ লোহার গেটের কাছে এলে বিপরীত দিক থেকে সেই পিকআপ লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। এর পর সবাই ছোটাছুটি করে। ওই সময় পিকআপভ্যানটি দ্রুত ঘোরাতে গেলে তার নিচে চাপা পড়েন আরিফ ও সুজন।

আরিফের ভাই বলেন, ‘যুবলীগের একটি অনুষ্ঠানে যাচ্ছিল আমার ভাই। তাদের গাড়িতে হামলা হলে সে নেমে পালানোর সময় ওই গাড়িতেই পিষ্ট হয়। তাৎক্ষণিক আরিফকে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।’

আরিফ রাজমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে কাজ করতেন বলে জানান তিনি। অন্যদিকে, গুরুতর আহত অবস্থায় সুজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে সেখানে তার মৃত্যু ঘটে।

নবোদয়ের পাশাপাশি আদাবরের ১০ ও ১৬ নম্বর সড়ক, শম্পা মার্কেট এলাকা এবং উত্তর আদাবরের সুনিবিড় হাউজিংয়েও একই সময়ে সংঘর্ষ বাঁধে।

স্থানীয় লোকজন জানান, স্থানীয় সংসদ সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক ও এবার মনোনয়ন প্রত্যাশী সাদেক খানের সমর্থকদের মধ্যে এই সংঘর্ষ বাঁধে।

দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নানক ঢাকা-১৩ (মোহাম্মদপুর-আদাবর) আসনে এবারও নৌকার মনোনয়নপ্রত্যাশী। অন্যদিকে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খানও মনোনয়ন চাইছেন এবার।

তারা আরও জানান, সাদেক খানের মনোনয়ন কিনতে তার সমর্থকদের ধানমন্ডির আবাহনী মাঠে জড়ো হতে বলা হয়েছিল। সেখান থেকে তাদের মনোনয়ন কিনতে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পথেই তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।

আহত ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হাসু কমিশনারের ভাগনে আলী, ইদ্রিস, জাহাঙ্গীর ও জলিলের অবস্থা গুরুতর।

আদাবর থানার ওসি কাওসার আহমেদ বলেন, আওয়ামী লীগের দুই পক্ষে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ঘটেছিল। এখন পরিস্থিতি শান্ত আছে। আমরা সতর্কভাবে পরিস্থিতির ওপর নজরদারি চালাচ্ছি।

সংঘর্ষের বিষয়ে সাদেক খান সাংবাদিকদের বলেন, যুবলীগের তুহিনের নেতৃত্বে আমার সমর্থকদের ওপর হামলা হয়।

আদাবর থানা যুবলীগের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম তুহিন সাবেক প্রতিমন্ত্রী নানকের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

অভিযোগ অস্বীকার করে তুহিন তিনি বলেন, জামায়াত-বিএনপির লোকজন আওয়ামী লীগের লেবাস নিয়ে এই ঘটনা ঘটাতে পারে।