চাঁদ একটা নয়, তিনটা!

বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ৮, ২০১৮

ঢাকা : পৃথিবীর চাঁদ নাকি একটা নয়, তিনটা! একটা চিরকালীন ‘চাঁদমামা’। অন্য দু’টো ধুলোর তৈরি। ধুলোর মেঘ, যাদের দেখা পাওয়াই দুঃসাধ্য। ‘মান্থলি নোটিসেস অব দ্য রয়্যাল অ্যাস্ট্রোনমিকাল সোসাইটি’ পত্রিকায় হাঙ্গেরির একদল বিজ্ঞানীর দাবি, চাঁদ যত দূরে, সেই প্রায় চার লাখ কিলোমিটার দূরত্বেই পৃথিবীর চারধারে ঘুরছে ধুলোর মেঘগুলো। কক্ষপথে চাঁদের আগে-পরেই তাদের যাতায়াত। পোলিশ জ্যোতির্বিজ্ঞানী কিজিমিশ কর্দিলেভস্কি ১৯৬১-তে এই ধুলো-সমষ্টির একটা আভাস পান। কিন্তু এবার গবেষকদের দাবি, উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন পোলারাইজড ফিল্টার সিস্টেম বসিয়ে তোলা ছবিতে তাদের অস্তিত্বের প্রায় নিশ্চিত প্রমাণ মিলেছে।

কিন্তু এদের কি আদৌ ‘চাঁদ’ বলা চলে? মহামূল্যবান প্রশ্ন। বিজ্ঞানের কথা আলাদা, কিন্তু পৃথিবীর ‘একমাত্র উপগ্রহ’ হিসেবে চাঁদের মৌরসি পাট্টা খোয়া গেলে মানুষের ‘কথার কথা’ থেকে পুঁথিপত্র- চতুর্দিকেই হোঁচট অবশ্যম্ভাবী!

প্রথমত, ‘একে চন্দ্র’ ঠিক, না ‘তিনে’, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠে যাবে। ভূগোল তো পাল্টাবেই, সাধারণ জ্ঞানেও হয়তো লেখা হবে, ‘নিল আর্মস্ট্রং একটি চাঁদে গিয়েছিলেন।’ চাঁদ ঘিরে সব ধর্মেই উৎসবের ছড়াছড়ি। সেই চাঁদের একচ্ছত্র সাম্রাজ্য পড়বে সঙ্কটে।

সম্ভাব্য সঙ্কটে আশ্বাস দিচ্ছে বিজ্ঞানই। ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব অ্যাস্ট্রোফিজিক্সের অধ্যাপক সুজন সেনগুপ্ত বলছেন, ‘এই দু’টিকে উপগ্রহ বলা উচিত নয়। এমনকি চাঁদের সঙ্গে এক গোত্রে ফেলাও ভুল হবে। ওই দু’টি কোনও কঠিন বস্তু নয়। সম্ভবত পৃথিবী তৈরির সময়ে গ্যাসীয় পিণ্ড ছিটকে তৈরি হয়েছিল।’ বিদেশি বিজ্ঞানীরাও কেউ কেউ বলছেন, চাঁদ আর পৃথিবীর মাঝখানে সম্ভবত মহাকর্ষজ ভারসাম্যে আটকে রয়েছে ওই ধুলো-সমষ্টি। আগে তারা স্থিতাবস্থার প্রমাণ দিক। কিছুই চূড়ান্ত নয়।

সূত্র: আনন্দবাজার