ইতিহাসের পাতায় বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন

বুধবার, নভেম্বর ৭, ২০১৮

নিউজ ডেস্ক: স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত ১২টি নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়েছে বাংলাদেশে। ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে দায়িত্ব পালন করছে বর্তমান কমিশন৷ কমিশনগুলোর দিকে একবার চোখ বুলিয়ে নেয়া যাক।

ইদ্রিস কমিশন

প্রথম প্রধান নির্বাচন কমিশনার ছিলেন বিচারপতি এম ইদ্রিস। তার কমিশনের মেয়াদ ছিল ১৯৭২ সালের ৭ জুলাই থেকে ১৯৭৭ সালের ৭ জুলাই। ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত করে এই কমিশন।

নুরুল ইসলাম কমিশন

বিচারপতি একেএম নুরুল ইসলাম বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদে দায়িত্ব পালন করা প্রধান নির্বাচন কমিশনার। তিনি ১৯৭৭ সালের ৮ জুলাই দায়িত্ব নেন। অব্যাহতি নেন ১৯৮৫ সালের ১৭ ফ্রেব্রুয়ারি। আট বছর দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

মাসুদ কমিশন

বিচারপতি চৌধুরী এটিএম মাসুদ দায়িত্ব নেন ১৯৮৫ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি৷ তিনি পূর্ণ পাঁচ বছর মেয়াদ শেষ করেন ১৯৯০ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি৷ এরশাদের আমলে ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সালের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এই কমিশনের অধীনে৷

সুলতান কমিশন

বিচারপতি সুলতান হোসেন খান ১৯৯০ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি সিইসি’র দায়িত্ব নেন। তবে মাত্র দশ মাস দায়িত্ব পালন করেন। ২৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত দায়িত্বে ছিলেন তিনি।

রউফ কমিশন

বিচারপতি সুলতান হোসেন খানের পর বিচারপতি মোহাম্মদ আবদুর রউফ সিইসি হিসেবে নিযু্ক্ত হন। গণতন্ত্র পুণরুদ্ধারের ১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা করে তাঁর কমিশন। তিনি ১৯৯৫ সালের ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।

সাদেক কমিশন

বিচারপতি একেএম সাদেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার পদে নিযুক্ত হন ১৯৯৫ সালের ২৭ এপ্রিল। তার কমিশনের অধীনেই হয় ১৯৯৬ সালের বহুল আলোচিত ও বিতর্কিত ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন। তাঁর মেয়াদ ছিল ১৯৯৬ সালের ৬ এপ্রিল পর্যন্ত।

হেনা কমিশন

এই প্রথম কোনো আমলাকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার পদে নিয়োগ দেয়া হয়। ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে সাবেক আমলা মোহাম্মদ আবু হেনা ১৯৯৬ সালের ৯ এপ্রিল সিইসি’র দায়িত্ব নেন। তাঁর অধীনে ১৯৯৬ সালের জুনে সপ্তম জাতীয় সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হ।৷ তিনি ২০০০ সালের ৮ মে পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।

সায়ীদ কমিশন

অষ্টম সিইসি হিসেবে এমএ সায়ীদ দায়িত্ব নেন ২০০০ সালের ২৩ মে৷ তিনি ২০০৫ সালের ২২ মে পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন৷ অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয় তাঁর কমিশনের অধীনে।

আজিজ কমিশন

বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম আলোচিত কমিশন আজিজ কমিশন। বিচারপতি এমএ আজিজ ২০০৫ সালের ২২ মে সিইসি’র দায়িত্ব নেন। ব্যাপক রাজনৈতিক টানাপোড়েনের সময় ২০০৭ সালের ২২ জানুয়ারি নবম জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন। পরে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান ফখরুদ্দীন আহমদ তফসিল বাতিল করেন। ২১ জানুয়ারি পদত্যাগ করেন এম এ আজিজ।

শামসুল হুদা কমিশন

সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে এমএ আজিজের উত্তরসূরী হন এটিএম শামসুল হুদা। তাঁর কমিশন ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে নবম জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা করে। তাঁর মেয়াদ ছিল ২০০৭ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০১২ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

রকিবুদ্দিন কমিশন

২০১২ সালের ০৯ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব নেয় রকিবুদ্দিন কমিশন। সাবেক এই সচিবকে নিয়োগ দেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান। আওয়ামী লীগ সরকারের এই মেয়াদেই সংসদে বাতিল হয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনেই এই কমিশন ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন পরিচালনা করে, যেখানে ১৫৩ জন সংসদ সদস্য বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। পূর্ণ পাঁচ বছর মেয়াদ শেষ হবার পর ২০১৭ সালের ০৯ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পান রকিবুদ্দিন।

নুরুল হুদা কমিশন

বর্তমান কমিশন হলো নুরুল হুদা’র কমিশন৷ সিইসি পদে সাবেক সচিব কেএম নুরুল হুদা নিয়োগ পান ২০১৭ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি। তাঁর অধীনেই হবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সূত্র: ডয়েচে ভেলে