মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ফিরিয়ে আনা এটাই ছিল আমাদের লক্ষ্য : প্রধানমন্ত্রী

মঙ্গলবার, নভেম্বর ৬, ২০১৮

ঢাকা: আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, স্বাধীনতার চেতনায় বিশ্বাসীরা চাইবেনা যুদ্ধাপরাধীরা ক্ষমতায় আসুক। আমরা স্বাধীনতাবিরোধী এবং যুদ্ধাপরাধীদের সাজা দিয়েছি। রায় কার্যকর করেছি। তারা আবার ক্ষমতায় আসুক বাংলাদেশের জনগণও চায়না, আমরাও চাই না।

মঙ্গলবার (৬ নভেম্বর) রাতে গণভবনে বাম গণতান্ত্রিক জোটের সঙ্গে সংলাপের শুরুতে সূচনা বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাধীনতার মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় বঙ্গবন্ধুকে হত্যা এবং সেই অবস্থা থেকে বাংলাদেশকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ফিরিয়ে আনা এটাই ছিল আমাদের লক্ষ্য। সবচেয়ে বড় কথা ছিল দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নতি করা। সামনে নির্বাচন আমরা চাই দেশের উন্নয়নের জন্য গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত থাকুক। ২০০১ সালে আমরা যেখানে বাংলাদেশ রেখে এসেছিলাম সেখান থেকে বাংলাদেশ আবার পিছিয়ে যায়। ২০০৮ সালে যখন সরকার গঠন করি তখন বিশ্বমন্দা থাকে। এর মধ্য দিয়ে আমরা এগিয়ে যাই। ২০১৩ সাল থেকেই নির্বাচন ঠেকানোর নামে অগ্নিসংযোগসহ নানা নাশকতা করা শুরু করে।’

সরকার প্রধান বাম জোটের নেতাদের উদ্দেশ্য বলেন, ‘২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত আপনারা যদি বাংলাদেশের উন্নয়নের চিত্রটা দেখেন তাহলে নিশ্চয়ই এটা স্বীকার করতে বাধ্য হবেন যে আমরা উন্নয়ন করতে সক্ষম হয়েছি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ফিরিয়ে আনা এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করার মতো কঠিন কাজটা এই সময়ের মধ্যে আমরা করতে পেরেছি। কারণ জনগণের সমর্থন ছিল বলেই যুদ্ধাপরাধের বিচার করার পাশাপাশি রায়ও কার্যকর করতে সক্ষম হয়েছে সরকার। এ কারণে বাংলাদেশের উন্নয়ন হচ্ছে যে কারণে আমাদের বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হার ৭. ৮ শতাংশ।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একাত্তরে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যেভাবে দেশের মানুষের উপর অত্যাচার করেছে ঠিক একই কায়দায় ২০০১ সালে নির্বাচনের পর অত্যাচার নির্যাতন করা হয়েছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উপর। যে ক্ষমতায় আসে সেই বসে যেতে চায়। খালেদা জিয়া বারোটা মামলা দিয়েছিল সরকারে এসে। আবার দেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকার এসেও আরো ৫/৬ টি মামলা দেয় আমার বিরুদ্ধে। এক/এগারো সরকার শেখ হাসিনাকে ইলেকশন না করার প্রস্তাব দিয়েছিল। বিনিময়ে একটি মর্যাদা দেয়ার প্রস্তাব দেয় তারা। কিন্তু আমি, একটি কথা জোর দিয়ে বলেছি নির্বাচন হবে, জনগণ যাকে চাইবে সেই ক্ষমতায় আসবে।’

বাম গণতান্ত্রিক জোটের আট দলের ১৬ প্রতিনিধি সংলাপে অংশ নেয়।