দাবি না মানলে রোডমার্চ ও ইসি অভিমুখে পথযাত্রা

মঙ্গলবার, নভেম্বর ৬, ২০১৮

ঢাকা : বুধবার (৭ নভেম্বর) প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সংলাপে দাবি না মানলে বৃহস্পতিবার (৮ নভেম্বর) রাজশাহীর উদ্দেশে রোডমার্চ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানী সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের উদ্যোগে আয়োজিত জনসভায় তিনি এ কর্মসূচি ঘোষণা দেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা রোড মার্চ করে রাজশাহীতে যাব। সেখানে ৯ নভেম্বর আমরা সমাবেশ করবো।

সরকারের পদত্যাগ, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন এবং বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ সকল রাজবন্দির নিঃশর্ত মুক্তি ও ৭ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে এ জনসভার আয়োজন করা হয়।

জনসভায় শুরুতেই পরিত্র কোরআন তেলাওয়াত পাঠ করেন জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা শাহ মো. নেছারুল হক। পরে গীতাপাঠ করেন বিএনপি নেতা বাবু রমেশ দত্ত। এরপর ত্রিপিটক পাঠ করা হয় এবং বাইবেল পাট করেন যুবদলের নেতা এ্যালবার্ট প্রি কস্টা।

জনসভা থেকে নতুন কর্মসূচির ঘোষণা দেয়া হয়। এর মধ্যে আগামীকালের সংলাপে দাবি না মানা হলে ৮ নভেম্বর রাজশাহী অভিমুখে লংমার্চ; সেখানে পরেরদিন ৯ নভেম্বর সমাবেশ করা হবে; এরপর ধারাবাহিক ভাবে খুলনা ও ময়মনসিংহেও লংমার্চ ও সমাবেশ এবং নির্বাচন কমিশন তফসিল না পেছালে নির্বাচন কমিশন অভিমুখে পদযাত্রা।’

জনসভায় প্রধান অতিথি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষনেতা ও গণফোরামের সভাপতি ড. কামালা হোসেন বলেন, ‘দেশের মালিক জনগণ। অধিকার আদায়ের দেশের মানুষরা দাঁড়িয়েছে এবং দাঁড়িয়ে থাকবে। আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছি দেশের মানুষকে মালিকানা ফিরিয়ে দিতে। আমরা জনগণকে দেশের মালিক করে তবেই ছাড়বো ইনশাল্লাহ।’

সভাপতির বক্তব্যে বিএনপি মহাসচিব ও ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমরা জনগণের মুক্তি চাই। গণতন্ত্রের মুক্তি চাই। আমরা সংলাপ চাই। কিন্তু সংলাপের নামে নাটক চলবে না। বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর পদ ছেড়ে দিতে হবে। সংসদ ভেঙে দিতে হবে, তা না হলে আন্দোলনের মধ্য দিয়েই আমরা আমাদের ৭ দফা দাবি আদায় করবো।’

কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেছেন, ‘৭১-এ বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে যেভাবে দেশকে স্বাধীন করেছিলাম, তেমনিভাবে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে গণতন্ত্রকে মুক্ত করবো, বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করবো।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, ‘উন্নয়নের ফাঁদে দুর্নীতির কারণে সরকারের উচ্চ রক্তচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এই কারণে আজকে আমাদের কি করনীয় সেই চিন্তা করতে হবে। গত ১০ মাসে নাশকতার নাম করে বিনা বিচারে সাড়ে পাঁচ জনকে সরকার হত্যা করেছে। এছাড়া কত হাজার লোককে হামলা, মামলা চালিয়েছে তার সবই আমাদের জানা।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মোশাররফ হোসেন বলেন, আজকের (মঙ্গলবার) সমাবেশ সাত দফা দাবির পক্ষের সমাবেশ। এই সাত দফা দেশের জনগণের দাবি। দেশের জনগণ সাত দফা দাবির পক্ষে ঐক্যবদ্ধ। তাই আমরা দাবি আদায় করেই ঘরে ফিরব। বুধবার ফয়সালা করুন, সমাধান দিন। যদি সাত দফা দাবি না মানেন, তাহলে আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায় করা হবে।’

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘আমাদের এক নম্বর কথা শেখ হাসিনা, বর্তমান ইসির অধীনে নির্বাচন হবে না। আমরা কাল আবার আলোচনা করতে যাবো। যদি আলোচনার মাধ্যমে দাবি আদায় না হয়। তাহলে আন্দোলনের মাধ্যমে রাজপথ প্রকম্পিত করে দাবি আদায় করা হবে।’