সাংবাদিককে হামলা করে ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগ

শুক্রবার, নভেম্বর ২, ২০১৮

ঢাকা: বগুড়ার মহাস্থানে এক অনুষ্ঠানে লোকজনের উপস্থিতি কম হওয়ায় বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ও স্থানীয় এক সাংবাদিককে পেটালেন জাতীয় পার্টীর সাংসদ ও তাঁর ছেলে। অভিযুক্ত শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনের জাতীয় পার্টির মনোনীত এমপি এবং তাঁর ছেলে শিবগঞ্জ উপজেলা জাতীয় যুবসংহতির আহবায়ক হুসাইন শরিফ সঞ্চয়।

সাংবাদিককে মারধরের পর তার ক্যামেরা ও মোবাইল ফোনও কেড়ে নেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার (১ নভেম্বর) বিকালে শিবগঞ্জের মহাস্থান উচ্চবিদ্যালয়ের চতুর্থ তলা একাডেমিক ভবনের ফলক উম্মোচন অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে রাত ৮টায় মোবাইল ফোনও ক্যামেরা ফেরত দেওয়া হয়।

মারধরের শিকার সাইদুর রহমান সাজু মহাস্থান প্রেসক্লাবের সভাপতি ও মহাস্থান উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার বিকালে মহাস্থান উচ্চ বিদ্যালয় ভবনের ফলক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সাংসদ শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ।

বিশেষ অতিথি ছিলেন তাঁর জ্যেষ্ঠ ছেলে হুসাইন শরিফ , অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও সাংসদের ভগ্নীপতি রফিকুল ইসলাম দুলাল।

অনুষ্ঠানে আশানুরূপ উপস্থিতি না থাকায় প্রধান অতিথি বিদ্যালয়ের সভাপতি ও কমিটির অন্যান্য সদস্যদের উপর ক্ষুব্ধহন। এক পর্যায়ে তিনি অফিস থেকে বের হয়ে উপস্থিতি কম হওয়ার কারণে সাজুর কাছে কৈফিয়ত চান। এ সময় তিনি কিছু বুঝে উঠার আগেই সাংসদ নিজেই তাকে কিল ঘুষি মারতে থাকেন।

এক পর্যায়ে হুসাইন শরিফ সঞ্চয় ও তার সাথে থাকা শেখ ফজলুল বারী সাজুকে স্কুলের কমন রুমে নিয়ে গিয়ে মারধর ও লাঞ্চিত করেন এবং তার ক্যামেরা ও দুইটি মোবাইল ফোন কেড়ে নেন।

এ সময় দৈনিক বগুড়ার মহাস্থান প্রতিনিধি সুমন ও নুরন্নবী রহমান ঐ ঘটনার ছবি তুলতে চেষ্টা করলে তাদের ব্যবহৃত ক্যামেরা ও মোবাইল ফোনও হাত থেকে ছিনিয়ে নেন।

বিষয়টি শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলমগী কবির ওশিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমানকে মহাস্থান প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে বলে জানান সাজু।

এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার রাতে শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘অনুষ্ঠানের দাওয়াত কার্ড ঠিকমতো না পৌঁছানোর কারণে সাজুর উপর ক্ষুব্ধ হয়েছিলাম। তবে কোনো মারপিটের ঘটনা ঘটেনি। আর সাজু সাংবাদিক হিসেবে নয়, কমিটির সদস্য হিসেবে সেখানে উপস্থিত ছিল।