‘সব বিভাগে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হবে’

বুধবার, অক্টোবর ৩১, ২০১৮

ঢাকা: আবার নির্বাচিত হলে দেশের সব বিভাগে একটি করে মেকিডেল বিশ্ববিদ্যালয় করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার মহাখালীতে শেখ রাসেল গ্যাস্টোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল ভবন উদ্বোধন করে এ কথা বলেন তিনি।

‘তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে বর্তমান সরকার কাজ করছে’ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘জনগণ নৌকায় ভোট দিলে সরকারের চলমান উন্নয়ন কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। আর এর পথ ধরেই কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছে যাবে বাংলাদেশ।’

আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক। এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর ব্যাক্তিগত চিকিৎসক ডা. মো. সিরাজুল ইসলাম শিশির। অনুষ্ঠানের শুরুতে হাসপাতালের একটি ভিডিও চিত্র উপস্থাপন করা হয়।

‘আগামী নির্বাচনে ইনশাল্লাহ্‌ বাংলাদেশের জনগণ নৌকায় ভোট দেবে’ এমন আশা ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচনে জয়ী হয়ে এসে ভিত্তিপ্রস্তর যেগুলি স্থাপন করেছি সেগুলো উদ্বোধন করবো। আল্লাহর কাছে আমাদের জন্যে দোয়া করবেন।’

এ সময় দেশের মানুষের কাছে নৌকা মার্কায় ভোট চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ভোট দিয়ে আমাদের নির্বাচিত করুন যে কাজগুলি শুরু করেছি সেগুলো যেন সমাপ্ত করতে পারি। অনেক কাজ প্রথমবার শুরু করেছিলাম তা পরে বন্ধ করে দিয়েছিল। ৮ বছর পরে এসে সেগুলি সম্পন্ন করতে হয়েছে। ওইরকম দুর্ভাগ্য যেন বাংলাদেশের জনগণের না হয়।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘চিকিৎসা বাংলাদেশের মানুষের একটি মৌলিক অধিকার। বঙ্গবন্ধু সংবিধানে এ কথাটি বলে গেছেন। সে কারণেই স্বাস্থ্য খাতের দিকে বেশি নজর দিয়েছি। তাছাড়া দেশের মানুষের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বজায় রাখা সরকারের দায়িত্ব ও কর্তব্য। দেশের মানুষ যেন সুস্বাস্ব্যের অধিকারী হয় সে লক্ষ্য নিয়ে আমরা কাজ করছি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের দেশের মানুষ পেটের রোগে সবচেয়ে বেশি ভোগে। আমাদের দেশের জলবায়ু, পরিবেশগত কারণে, চলাফেরা, বন্যা, খরাসহ নানা কারণে মানুষ পেটের পীড়ায় ভোগে। এজন্য একটি বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন ছিল। সে কারণেই শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল ভবন স্থাপন করলাম। এমন একটি প্রতিষ্ঠান করতে পেরে আমি আনন্দিত।’

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘ঢাকা, রাজশাহী ও সিলেট তিনটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় করে দিয়েছি। সামনে নির্বাচন আবার যদি ক্ষমতায় আসতে পারি তাহলে প্রত্যেক বিভাগে একটি করে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় করবো।’

তিনি বলেন, ‘মানুষ যেন স্বাস্থ্য সেবা পায় সেজন্য বেসরকারি খাতে হাসপাতাল নির্মাণের জন্য উৎসাহিত করা হচ্ছে। তারা যেন ট্যাক্স কম দিয়ে হাসপাতালের সকল ইকুইপমেন্ট ও মোশিনারিজ আমদানি করতে পারে তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের ধারাবাহিকতা থাকায় আমরা যেমন দেশের উন্নয়ন করেছি, তেমনি বিশ্বে বাংলাদেশের মান মর্যাদাও বৃদ্ধি করেছি। আগে বিদেশিরা কোনো বাঙালিকে দেখলে বলতো খুনি। এখন আর তা বলে না। বাংলাদেশের হারানো গৌরব আমরা ফিরিয়ে আনতে পেরেছি। এজন্য আমি গর্বিত।’