আ. লীগের সংলাপের সম্মতিকে স্বাগত জানালো জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট

সোমবার, অক্টোবর ২৯, ২০১৮

ঢাকা: জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের দেয়া সংলাপের আহ্বানে প্রধানমন্ত্রীর সম্মতিকে স্বাগত জানিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। কখন, কোথায় সংলাপ হবে তা নির্দিষ্ট করে জানলে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট সংলাপে বসতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঐক্যফ্রন্টের নেতা ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ।

সোমবার(২৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় মতিঝিল টয়টো টাওয়ারে ঐক্যফ্রন্টের এক জরুরী বৈঠকের পর তিনি এসব কথা বলেন।

মওদুদ আহমেদ বলেন, ‘আমরা প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে সংলাপে বসার জন্য আহ্বান জানিয়ে ছিলাম। আজকে আমরা জানতে পারলাম আমাদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে আমাদের সংলাপের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন আমাদের সাথে বসবেন। আমরা প্রধানমন্ত্রীর এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাচ্ছি এবং আনুষ্ঠানিকভাবে জানালে কখন, কোথায়, কোন সময়, কোন তারিখে হবে আমরা সাড়া দেব।’

খালেদা জিয়ার রায় নিয়ে মওদুদ আহমেদ বলেন, ‘আজ জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে সাত বছরের কারাদণ্ড রায় দিয়েছেন আদালত। তার অনুপস্থিতে মামলার কার্যক্রম চলেছে এবং রায় দেয়া হয়েছে। এটা ন্যায়বিচারের পরিপন্থি। আমরা এর নিন্দা জানাই। খালেদা জিয়া নানা রোগে আক্রান্ত। এটা সরকারের উপকৃত সিদ্ধান্ত বলে আমরা মনে করছি।’

বিএনপির এই নীতিনির্ধারক বলেন, ‘আমরা খালেদা জিয়ার জামিনের বাধা দূর করে তাকে দ্রুত মুক্তি পাবার ব্যবস্থা করব। আমরা মনে করি এই মামলা রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক এবং উদ্দেশ্য প্রণোদিত।’

শ্রমিকদের ধর্মঘট প্রসঙ্গে তিনি বলেন,‘গতকাল এবং আজ দেখেছি সরকারি মন্ত্রীদের মদদে পরিবহন ধর্মঘটের নামে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে হেনস্তা ও দুর্ভোগের স্বীকার হতে হয়েছে। এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের ঐক্যফন্টের বৈঠক এখনো চলছে ভবিষ্যত কর্মসূচি নির্ধারণ করছি।’

আগামীকাল ইসির সঙ্গে বৈঠক হবে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মওদুদ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আমাদের ডাকে সাড়া দিয়েছেন। সেজন্য আমরা এখন নির্বাচন কমিশন কাছে যাওয়া প্রয়োজন বোধ করছিনা। আগামীকাল ৩ টায় আমাদের যাবার কথা ছিল, আমরা যাচ্ছি না। প্রধানমন্ত্রীর সাথে সংলাপে বসলে ইসির বিষয়টি আলোচনা হবে।’

ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ছাড়াও বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক রতন, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর মান্না, নাগরিক ঐক্যের প্রধান সমন্বয়ক শহীদুল্লাহ কায়সার, কেন্দ্রীয় নেতা ডা. জাহিদ, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু, নির্বাহী সভাপতি এডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ প্রমুখ।