বাগেরহাট-৩ নতুন চমক আয়েশা সিদ্দিকা

শনিবার, অক্টোবর ২৭, ২০১৮

আসন্ন একাদশ নির্বাচনে বাগেরহাট-৩ (রামপাল ও মংলা) আসনে এবার বিএনপির নতুন চমক হচ্ছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য আয়েশা সিদ্দিকা মাণী। তিনি দীর্ঘ ১০ বছর যাবত এলাকায় সামাজিক উন্নয়নসহ দলীয় কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। দলীয় ভুমিকার পাশাপাশি রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিরুদ্ধে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন স্থানীয় এলাকাবাসীর পক্ষে। রাজনীতিক পরিবারের কন্যা সন্তান হয়ে স্থানীয় সমাজ উন্নয়নে ভ‚মিকা রেখে আসছেন।

আয়েশা সিদ্দীকার মা বেগম শরীফা হাকীম বিগত দিনে বাগেরহাট জেলা মহিলা দলের দু’বার সাধারণ সম্পাদিকা ছিলেন ৯ বছর ধরে। এ ছাড়া বাগেরহাট বিএনপির মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা ছিলেন। পিতা অ্যাডভোকেট শেখ আব্দুল হাকীমও সক্রিয় রাজনীতিবিদ ছিলেন। মুসলিম লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। এ ছাড়া প্রাদেশিক নির্বাচনে অংশ নেন মুসলিম লীগ থেকে। তার আপন চাচা শেখ আব্দুল ওয়াহাব স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন টানা তিনবার। তারপর রাপমাল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। আর বাগেরহাট জেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সদস্যও ছিলেন তিনি। তার মামা সালাম পাটোয়ারী ছিলেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক। তিনি বাগেরহাট জেলা বিএনপির প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন। ২০০৬ সালের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন। রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে শেষ পর্যন্ত সেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। ২০০৭ সালে উনি রাজনৈতিক হত্যার শিকার হন। আয়েশা সিদ্দীকার মায়ের মামা আফতাব উদ্দিন হাওলাদারও বাগেরহাট-৩ আসনে বিএনপির টানা তিনবারের এমপি ছিলেন। তিনি এলাকায় শিল্পপতি হিসেবে পরিচিত।

১৯৮৫ সালে বাগেরট ছাত্রদলের সর্ব প্রথম কমিটির সদস্য অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন। তারপর ১৯৮৭ সালে প্রফুল্ল চন্দ্র মহাবিদ্যালয় (পিসি) ছাত্র সংসদ নির্বাচনে তিনি অংশ নেন। আর জেলা ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠা কমিটিতেও তার অবদান রয়েছে বলে তিনি জানান। পর্যায়ক্রমে ১৯৮৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন আয়েশা সিদ্দিকা মাণী।

১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থানে সরাসরি অংশগ্রহণ করেন। একই সঙ্গে ’৯০-এর ডাকসু নির্বাচনে তিনি ভুমিকা রাখেন। ১৯৯১ সাল থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রোকেয়া হল ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এর আগে স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলনে প্রতিদিন রাতের বেলায় লাঠি মিছিলের অন্যতম উদ্যোক্তাও ছিলেন এ নেত্রী। ১৯৯৬ সালে প্রথম মহিলা দলে যুক্ত হন তিনি। শুধু তাই নয়, বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদার বড় বোন চকলেট আপা খ্যাত তার হাত ধরে মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে মেম্বর হন। ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত মহিলা দলের আহ্বায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য ছিলেন। ২০০৮ সালের পর রাবেয়া সিরাজ ও শিরিন সুলতানার কমিটির সক্রিয় সাংগঠনিক কর্মী ছিলেন ছিলেন। ২০১০ সালের নুরে আরে সাফা ও শিরিন সুলতানার কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

এদিকে ২০১১ সালের বাগেরহাট জেলা মহিলা দলের যুগ্ম আহ্বায়ক এবং জেলা বিএনপির সদস্য ছিলেন। বর্তমানে বাগেরহাট জেলা বিএনপির উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন। আর বিএনপির বর্তমান কমিটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন। এর আগে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষে তিনি এশিয়ান ওমেন পলিটিক্সে অংশ নিতে মালয়েশিয়া যান।

এবার এলাকাবাসীর দোয়া চেয়ে রামপাল ও মংলা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অসংখ্য ব্যানার, ফেস্টুন টাঙিয়েছেন তিনি। সিদ্দিকা বলেন, আমরা বংশ পরম্পরায় এলাকার নানা সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। আমি গণসংযোগের মধ্য দিয়ে এলাকা চষে বেড়াচ্ছি। দলের পক্ষ থেকেও আমাকে নির্বাচনের প্রস্তুতির কাজ চালাতে বলা হয়েছে। তিনি বলেন, আমি দলের মনোনয়ন পাব।

এদিকে স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, প্রাথমিক ও প্রশাসনিক জরিপে বাগেরহাট-৩ নির্বাচনী এলাকায় আয়েশা সিদ্দিকা মাণী আসন্ন একাদশ সংসদ নির্বাচনে এলাকার সবচেয়ে শক্তিশালী ও জনপ্রিয় প্রার্থী। নারী প্রার্থী হওয়ায় তার রয়েছে এলাকায় বেশ কদর। মিষ্টভাষী সিদ্দিকাকে এলাকার মানুষ আপন করে নিয়েছে বলেও জানান স্থানীয় বিএনপি নেতারা। বেশ কয়েক স্থানীয় বিএনপি নেতা জানান, তিনি দীর্ঘদিন যাবত এলাকার পরিছন্ন রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং তৃণমূল পর্যায়ে জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করছেন। মসজিদ, মন্দির, খেলার মাঠ, স্কুল-কলেজ, মাদরাসা, মসজিদ ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড করে এলাকার এ প্রান্ত থেকে ওই প্রান্ত ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

তিনি মানবকণ্ঠকে বলেন, নেত্রী হতে আসিনি। এলাকার সন্তান হিসেবে হাসি ফোটাতে চাই। সুখে-দুঃখে স্থানীয় জনগণের পাশে থাকতে চাই। ধর্মীয় মূল্যবোধের গুরুত্বারোপ, দুই উপজেলা মংলা ও রামপাল সদরের জলাবদ্ধতা, জলজট ও যানজট নিরসন, নিরপেক্ষতা দূরীকরণ, বেকারত্বের অবসান, নারী-শিশুসহ সবার নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, অসামাজিক কর্মকাণ্ড পরিহার, মাদকাসক্ত ও সন্ত্রাস দূরীকরণ ৭ দফাসহ অসহায় নিপীড়িত নির্যাতিত মানুষের কাছে থাকার অঙ্গীকার আমার। এ ছাড়া একটি আধুনিক নিরাপদ উন্নয়নমূলক বাসযোগ্য আসন গড়ার প্রত্যয়ে সর্ব পর্যায়ে বৈষম্যহীন উন্নয়নের ভাবনা রয়েছে তার।

দল থেকে মনোনয়ন পেলে এমপি নির্বাচিত হয়ে এলাকাবাসীর কল্যাণে সব ধরনের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে দেশের মধ্যে আগামীতে নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত স্থাপন করার ইচ্ছা জানিয়ে সিদ্দিকা বলেন, মনোনয়নের প্রত্যাশা তো থাকবেই। তবে আমি এখন মনোনয়ন নিয়ে ব্যস্ত হচ্ছি না। দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে জেল থেকে মুক্তির আন্দোলনেই রামপাল ও মংলা হচ্ছে আমার কাছে বেশি প্রাধান্য। আর দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে আমি এলাকায় দুর্বার আন্দোলনের জন্য প্রস্তুতি নিয়েছি। তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় কর্মসূচি ঘোষিত হওয়ার পর থেকে আমি নিয়মিত এলাকায় অবস্থান করছি। পাশে দাঁড়িয়েছি নেতাকর্মীদের। সব কর্মসূচি পালন করার জন্য এখন মাঠে আছি।

তিনি আরো বলেন, খালেদা জিয়াকে জেল থেকে মুক্ত করে ছাড়ব। আর নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশ নিয়ে আগামীতে বিএনপিকে ক্ষমতায় আনা পর্যন্ত মাঠ ছাড়ব না।

প্রতি মুহুর্তের খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিন