সাত পিএসটিএনের অব্যবহৃত তরঙ্গ বাতিল

মঙ্গলবার, অক্টোবর ২৩, ২০১৮

ঢাকা: বেসরকারি খাতে ফিক্সড ফোনসেবার লাইসেন্স পাওয়া ১৩ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে চালু রয়েছে দুটির কার্যক্রম। পাবলিক সুইচড টেলিফোন নেটওয়ার্ক (পিএসটিএন) নামে দেয়া এ লাইসেন্সের আওতায় প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিরবচ্ছিন্ন সেবাদানে তরঙ্গও বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল। তবে লাইসেন্স থাকলেও কার্যক্রমে নেই, এমন সাতটি প্রতিষ্ঠানের তরঙ্গ বরাদ্দ সম্প্রতি বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। বাতিল করা তরঙ্গ ভবিষ্যতে বরাদ্দের মাধ্যমে আয়ের পরিকল্পনা রয়েছে সংস্থাটির।

কমিশন সূত্রে জানা গেছে, তরঙ্গ বরাদ্দ বাতিল হওয়া পিএসটিএন অপারেটরগুলো হলো ন্যাশনাল টেলিকম, টেলিবার্তা, পিপলস টেলিকম, ওয়ান টেলিকম, ওয়েস্টেক টেলিকম, জালালাবাদ টেলিকম ও ইন্টিগ্রেটেড সার্ভিসেস। এর মধ্যে ন্যাশনাল টেলিকমের ৪০০ ও ১৮০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডে তরঙ্গ বরাদ্দ রয়েছে। টেলিবার্তার তরঙ্গ বরাদ্দ রয়েছে ১৯০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডে, পিপলস টেলিকমের ৪৫০, ওয়ান টেলিকমের ৮০০, ওয়েস্টেকের ১৯০০, জালালাবাদের ৮০০ ও ইন্টিগ্রেটেড সার্ভিসেসের ৮০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডে। এর বাইরে ৬, ৭, ১৫ ও ১৮ গিগাহার্টজ ব্যান্ডে মাইক্রোওয়েভ লিংকের জন্য তরঙ্গ বরাদ্দ রয়েছে প্রতিষ্ঠানগুলোর।

২০০৪ সালের আগে দেশের একমাত্র ফিক্সড ফোন অপারেটর ছিল রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান (বিটিসিএল)। ফিক্সড ফোনসেবার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে ২০০৪ সালে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে অঞ্চলভিত্তিক পিএসটিএন অপারেটর হিসেবে সেবা পরিচালনার অনুমতি দেয় বিটিআরসি। আর দেশব্যাপী পিএসটিএন সেবাদানের লাইসেন্স দেয়া হয় ২০০৭ সালের শেষ দিকে।

দেশব্যাপী ও অঞ্চলভিত্তিক সেবাদানের জন্য দুটি শ্রেণীতে দেশে বেসরকারি খাতে মোট ১৩টি পিএসটিএন লাইসেন্স দেয়া হয়েছে। দেশব্যাপী এ সেবার লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলো হলো টেলিবার্তা লিমিটেড, র‌্যাংকস টেলিকম লিমিটেড, পিপলস টেলিকমিউনিকেশনস অ্যান্ড ইনফরমেশন লিমিটেড, ঢাকা টেলিফোন কোম্পানি লিমিটেড ও ন্যাশনাল টেলিকম লিমিটেড। আর অঞ্চলভিত্তিক পিএসটিএন সেবাদানের লাইসেন্স পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হলো ওয়ান টেলিকম, বাংলাফোন লিমিটেড, এসএ টেলিকম লিমিটেড, ওয়েস্টেক লিমিটেড, জালালাবাদ টেলিকম লিমিটেড, নেক্সটেল টেলিকম লিমিটেড, ওয়ার্ল্ডটেল বাংলাদেশ লিমিটেড ও ইন্টিগ্রেটেড সার্ভিসেস লিমিটেড।

২০১০ সালের মার্চে অবৈধ ভয়েস ওভার ইন্টারনেট প্রটোকল (ভিওআইপি) ব্যবসার অভিযোগে বন্ধ করে দেয়া হয় পাঁচ পিএসটিএন অপারেটরের সেবা। একই বছরের ১৫-২৩ মার্চের মধ্যে র‌্যাংকসটেল, ওয়ার্ল্ডটেল, পিপলসটেল, ঢাকা ফোন ও ন্যাশনাল ফোন— এ পাঁচ প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় বিটিআরসি। তবে পরের বছরই শর্তসাপেক্ষে প্রতিষ্ঠানগুলোর লাইসেন্স ফিরিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এর মধ্যে শর্ত মেনে আবারো সেবা চালু করে র‌্যাংকসটেল ও ওয়ার্ল্ডটেল। তবে পরবর্তী সময়ে ওয়ার্ল্ডটেলের কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। বর্তমানে বেসরকারি পিএসটিএনগুলোর মধ্যে শুধু র‌্যাংকসটেল ও বাংলাফোনের কার্যক্রম চালু রয়েছে।

এর আগে বাতিল করা হয় আরো পাঁচটি পিএসটিএনের তরঙ্গ। ফলে বর্তমানে পিএসটিএনগুলোর মধ্যে তরঙ্গ বরাদ্দ রয়েছে শুধু বিটিসিএল ও র‌্যাংকসটেলের।

বিটিআরসির ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা এ প্রসঙ্গে বলেন, সীমিত জাতীয় সম্পদ হিসেবে তরঙ্গের আর্থিক মূল্য অনেক বেশি। পিএসটিএন লাইসেন্সধারী এসব প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে কার্যক্রমে নেই। অথচ বিভিন্ন ব্যান্ডে তাদের তরঙ্গ বরাদ্দ রয়েছে। তরঙ্গের পরিকল্পিত ব্যবহার নিশ্চিতে এসব প্রতিষ্ঠানকে বরাদ্দ দেয়া তরঙ্গ বাতিল করেছে কমিশন। আগামীতে প্রযুক্তি ও প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় নিয়ে এসব তরঙ্গ বরাদ্দের মাধ্যমে আয়ের পরিকল্পনা রয়েছে।

উল্লেখ্য, সেলফোন সেবার কারণে ফিক্সড ফোনের ব্যবহার কমে এলেও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এখনো জনপ্রিয় পিএসটিএন অপারেটরদের সেবা। মূলত কম খরচে ভয়েস কল করার সুবিধা ও ডাটা কানেক্টিভিটি সেবার মাধ্যমে এ জনপ্রিয়তা টিকিয়ে রেখেছে প্রতিষ্ঠানগুলো।