রোহিঙ্গা নিধন

মিয়ানমারের ৫ সেনা কর্মকর্তার ওপর অস্ট্রেলিয়ার নিষেধাজ্ঞা

মঙ্গলবার, অক্টোবর ২৩, ২০১৮

ঢাকা: মিয়ানমারের সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর হত্যা ও ধর্ষণসহ নানা মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় মঙ্গলবার সেনাবাহিনীর শক্তিশালী পাঁচ সেনা কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে অস্ট্রেলিয়া। এ নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি মিয়ানমার সরকারের মুখপাত্র জ হতে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পর মঙ্গলবার ওই পাঁচ সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে একই ব্যবস্থা নিল অস্ট্রেলিয়া। তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছে অস্ট্রেলিয়ান সরকার। পাশাপাশি তাদের ওই দেশে সফরের ওপরও জারি করা হয়েছে নিষেধাজ্ঞা। এই নিষেধাজ্ঞা আরোপের আগে মিয়ানমারের সামরিক কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দিত অস্ট্রেলিয়া।

এই পাঁচ সেনা কর্মকর্তা হলেন- লেফটেন্যান্ট জেনারেল অং কিয়াও জ, মেজর জেনারেল মং মং সো, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল অং অং, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল থান ও এবং মেজর জেনারেল থিন মং সো। ওই পাঁচ কর্মকর্তার কয়েকজন ইতিমধ্যে দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেছেন বলেও জানা গেছে।

এ সংক্রান্ত এক বিবৃতিতে অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেরিস পেইন বলেন, রাখাইন রাজ্যে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর যে ইউনিটগুলো মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটিয়েছে, তাদের নেতৃত্বে ছিলেন এই পাঁচ জেনারেল।

গত বছরের ২৫ আগস্ট থেকে রাখাইন রাজ্যের সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর নির্যাতন শুরু করে মিয়ানমার সেনারা। তাদের দমন পীড়ণের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে ৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী। আগে থেকেই সেখানে অবস্থান করছিলো আরো ৪ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা শরণার্থী। সবমিলিয়ে বর্তমানে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের সংখ্যা এখন ১০ লাখের ওপর।

তবে মিয়ানমারের এই সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীটি বরাবরই নানা বঞ্চনা আর নির্যাতনের শিকার। এমনকি রোহিঙ্গাদের নাগরিকের মর্যাদা দিতে রাজি নয় মিয়ানমার সরকার। তবে গত বছর রোহিঙ্গাদের ওপর ব্যাপক মাত্রার নির্যাতন শুরু করে মিয়ানমার সেনারা। তারা রাখাইনে গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দিয়েছে। পাশপাশি হত্যা, গ্রেপ্তার, গণধর্ষণের মত অপরাধ করেছে।

মিয়ানমার সেনাদের এই নির্যাতনকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে উল্লেখ করেছে জাতিসংঘ। এসব মানবাধিকার লঙ্ঘণের অপরাধে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত।

সূত্র: আল জাজিরা