সরকারি চাকরি আইন সংবিধান পরিপন্থী ও বৈষম্যমূলক

সোমবার, অক্টোবর ২২, ২০১৮

ঢাকা: ফৌজদারি অপরাধে অভিযুক্ত সরকারি কর্মকর্তাদের গ্রেফতারের আগে সরকারের কাছ থেকে অনুমতি গ্রহণের বিধান রেখে ‘সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮’ –এর খসড়া গত ২১ অক্টোবর জাতীয় সংসদে উত্থাপিত হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। দক্ষ, জনবান্ধব, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক জনপ্রশাসন নিশ্চিতে খসড়া আইনটির এই বৈষম্যমূলক বিধান সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় আইনটি পাস না করার জন্য জাতীয় সংসদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছে টিআইবি।

সোমবার টিআইবি আউট-রিচ অ্যান্ড কমিউনিকেশন বিভাগের পরিচালক শেখ মনজুর-ই-আলম স্বাক্ষরিত এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে এ আহ্বান জানানো হয়েছে।

টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘প্রস্তাবিত ধারাটি বৈষম্যমূলক ও সংবিধান পরিপন্থী। কারণ, একই অপরাধে জড়িত হলে সাধারণ নাগরিক ও জনপ্রতিনিধিদের জন্য যেখানে পূর্বানুমতির প্রয়োজন নেই, সেখানে কোনও বিশেষ মহলের জন্য পূর্বানুমতির বিধান সংযুক্ত করা আইনের চোখে সব নাগরিকের সমান অধিকারের যে সাংবিধানিক বিধান, তার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।’

তিনি আরও বলেন, ‘আইনটি এভাবে পাস হলে বর্তমান সরকারের আমলে প্রণীত ও বাস্তবায়নরত জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশলের সঙ্গেও এটি সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী হবে। এছাড়া ধারাটি ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮ এর ৫৪ ধারার সঙ্গেও সরাসরি সাংঘর্ষিক, যেখানে আমলযোগ্য অপরাধে জড়িত থাকলে, বা জড়িত থাকার ব্যাপারে মামলা হলে বা বিশ্বাসযোগ্য তথ্য বা সন্দেহ থাকলেও বিনা ওয়ারেন্টে গ্রেফতারের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।’

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন,‘এছাড়া, জাতীয় সংসদে উত্থাপিত খসড়া ‘সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮’ অনুযায়ী ফৌজদারি অপরাধে অভিযুক্ত সরকারি কর্মকর্তাকে গ্রেফতারে পূর্বানুমতি গ্রহণের যে বিধান সন্নিবেশিত হয়েছে, তা প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তাদের সততা, স্বচ্ছতা, উন্নততর পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষ জনপ্রশাসন নিশ্চিতের পরিপন্থী ও উদ্বেগজনক হবে।’

উল্লিখিত বিধান রেখে আইনটি পাস হলে বাস্তবে সরকারি খাতে অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রতিরোধ দূরে থাকুক,আইনের ছত্রছায়ায় এ ধরনের অপরাধ সুরক্ষা পাবে ও এর ব্যাপকতা বাড়ার ঝুঁকি আরও বৃদ্ধি পাবে,উল্লেখ করে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বিধানটির পুনর্বিবেচনার জন্য সরকারের প্রতি ও বিশেষ করে সংসদীয় কমিটির প্রতি আহ্বান জানান।