নির্বাচন হবে কি না, আশঙ্কায় আছি : এরশাদ

শনিবার, অক্টোবর ২০, ২০১৮

ঢাকা: জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ বলেছেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনশ’ আসনে প্রার্থী দেব। সেইসঙ্গে আমরা জোটগতভাবে নির্বাচন করতে চাই। তবে পরিস্থিতির আলোকে সিদ্ধান্ত বদলাতে পারে।

তিনি বলেন, আমরা নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহণ করছি। এখন থেকেই যাত্রা শুরু হোক। আমরা তিনশ’ আসনে প্রার্থী দেবো। আমরা তিনশ’ আসনে নির্বাচন করতে চাই।

রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শনিবার জাতীয় পার্টির মহাসমাবেশ থেকে এ ঘোষণা দেন এরশাদ। সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সাবেক এই রাষ্ট্রপতি সভাস্থলে পৌঁছান।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সম্মিলিত জাতীয় জোটের সমাবেশ শুরু হয়েছে সকাল পৌনে ১১টায়। সম্মিলিত জাতীয় জোটের মহাসমাবেশে মঞ্চে এসেছেন জোটের নেতারা। মঞ্চে উপস্থিত রয়েছেন সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদ ও কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের।

ভাষণে এরশাদ বলেন, আমরা জাতীয় পার্টি সবসময় নির্বাচন করেছি। আজও আমরা নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত। তবে আমরা সুষ্ঠু নির্বাচন চাই। অবাধ নির্বাচন চাই। নিশ্চয়তা চাই, আমরা যারা সংসদে আছি সকলের সমন্বয়ে নির্বাচনকালীর সরকার গঠন করতে হবে।

সমাবেশে তিনি বলেন, আমরা নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহণ করছি। এখন থেকেই যাত্রা শুরু হোক। আমরা তিনশ’ আসনে মনোনয়ন দেবো। আগামী নির্বাচনে ৩০০ আসনেই প্রার্থী দিতে প্রস্তুত জাতীয় পার্টি। নির্বাচনের যারা করতে চাও, এগিয়ে আসো। এ মাসের মধ্যেই পার্লামেন্টারি বোর্ড গঠন করা হবে। তৃণমূলের সমর্থনে মনোনয়ন দেয়া হবে।

সাধারণ জনগণের উন্নয়নের জন্য যা যা করা লাগে জাতীয় পার্টি তা করবে উল্লেখ করে দলটির চেয়ারম্যান বলেন, শেষ কথা, নির্বাচনের জন্য অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। আমি নতুন করে ১৮ দফা কর্মসূচি গ্রহণ করেছি।

তিনি বলেন, আমরা নির্বাচনের পদ্ধতি পরিবর্তন করতে চাই। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা চাই। শিক্ষা পদ্ধতি সংস্কার চাই। স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণ চাই। শান্তির রাজনীতি চাই। সড়ক নিরাপত্তা চাই। জাতীয় পার্টি ক্ষমতায় গেলে প্রাদেশিক সরকার ব্যবস্থা প্রণয়ন করবে। দেশে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করবে। দারিদ্র দূর করবে।

তিনি আরো বলেন, দেশবাসী পরিবর্তন চায়। তাই জাতীয় পার্টির সামনে সুদিন। আমরা ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য প্রস্তুত। দেশের স্বার্থে, গণতন্ত্রের স্বার্থে রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ হতে পারে। পরিস্থিতির আলোকে জাতীয় পার্টি নির্বাচনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।

সমাবেশে আরো উপস্থিত আছেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার, প্রেসিডিয়াম সদস্য আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, জিয়া উদ্দিন বাবলু, মুজিবুল হক চুন্নু প্রমুখ।

এদিকে মহাসমাবেশের শুরুতেই বিশৃঙ্খলা করেছে খেলাফত মজলিশ। সমাবেশের শুরুতে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা শুরু হলে তা বন্ধ করার জন্য শোরগোল করে খেলাফত মজলিশ। এতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে এক পর্যায়ে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা বন্ধ করে দেয়া হয়।