খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে আলোচনায় বসুন: ফখরুল

শনিবার, অক্টোবর ২০, ২০১৮

ঢাকা : দেশের মানুষের কল্যাণে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে তার সঙ্গে আলোচনায় বসতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে জাতীয় গণতান্ত্রিত পার্টি আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি এ আহ্বান জানান। ‘বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি- ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল কর’ শীর্ষক এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘বিরোধী দল কথা বলতে গেলেই রাষ্ট্রদ্রোহিতা। ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর মত মানুষ না কী রাষ্ট্রদ্রোহিতা করছেন। সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলছেন। সরকারকে বলতে চাই, এসব না করে দয়া করে সোজা রাস্তায় আসুন। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিন। তার সঙ্গে আলাপ করুন। বিরোধী দলের সাথে আলাপ করুন। কিভাবে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন হবে, তার পথ বের করুন। এছাড়া অন্য কোন পথ নেই, বিকল্প নেই। আমরা বারবার বলছি, এখনও বলছি- আসুন দেশনেত্রীকে মুক্তি দিন। সকল বিরোধী দলের নেতৃবৃন্দের সাথে বসুন, কথা বলুন। দেশের মানুষের কল্যাণ ও শান্তি এবং গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের জন্য আলোচনায় বসে সমস্যা সমাধান করুন। অন্যথায় এর সমস্ত দায়-দায়িত্ব আপনাদেরকেই বহন করতে হবে।’

নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের দিকে ইঙ্গিত করে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন আজকে বিভক্ত, তারা (নির্বাচন কমিশন) এখন ভিন্ন কথা বলছে। সেখানে মতবিরোধ তৈরি হয়েছে। একজন কমিশনার যে প্রস্তাব দিয়েছেন সেই প্রস্তাবকে অন্য কমিশনার বলছে অসাংবিধানিক। নির্বাচন কমিশন নিজেরাই বিভক্ত হয়ে পড়েছে। তাই বিভক্ত নির্বাচন কমিশন দিয়ে দেশে কোন সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।’

তিনি বলেন,‘জোর করে একটা দলকে ক্ষমতায় বসাতে, সকল প্রকার আইন কানুন করে ২০১৪ সালের আরেকটা নির্বাচন করতে যাচ্ছে সরকার। নির্বাচন কমিশনে নিজস্ব কোন ক্ষমতা নেই। তাদের পুরোটাই নির্ভর করতে হয় সরকারের কর্মকর্তা এবং সরকারের ওপরে। নির্বাচন কমিশনের সচিবের কথায় মনে হয়, তিনি প্রধান নির্বাচন কমিশন, আর প্রধান নির্বাচন কমিশনের কথা শুনে মনে হয়, সব চেয়ে অসহায় ব্যক্তি। তিনি কিছুটা এরশাদ সাহেবের মতো সকালে এক কথা বলেন, বিকেলে এক কথা বলেন।’

সাবেক এই প্রতি মন্ত্রী বলেন, ‘এদেশের মানুষকে বোকা ভাববেন না। সব সময় নীরব ভাববেন না। কারণ এ দেশের মানুষ বারবার নিজেদের প্রয়োজনে রাস্তায় নেমে এসেছে। আবারো রাস্তায় নামবে। আমরা বলেছি আমরা একটা পরিবর্তন চাই। তাই বলছি দয়া করে সিধা রাস্তায় আসুন, দেশনেত্রীকে মুক্তি দিন, তার সাথে আলাপ করুন, বিরোধী দলের সাথে আলাপ করুন এবং দেশে একটা সুষ্ঠু নির্বাচন কিভাবে হবে তার পথ বের করুন। এছাড়া অন্য কোন পথ নেই বিকল্প নেই।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ২৩ অক্টোবর একটা সমাবেশ করতে যাচ্ছিল, সরকার বলছে নাশকতা হবে, দেওয়া যাবে না। অথচ চরমোনাই পীর সাহেবকে অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এরশাদ সাহেবকে সরকারি টাকায় ঢাকা অচল করে সমাবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে।’

খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ কারাগার থেকে বেগম জিয়াকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। সেখানেও নূন্যতম চিকিৎসা তিনি পাচ্ছেন না।’

‘বর্তমান নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব কোন ক্ষমতা নাই’ মন্তব্য বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘সংবিধানে বলা আছে, সব মন্ত্রণালয়গুলো তাদের অধিনে থাকবে। যখন যাকে ইচ্ছে তাকে নিতে পারবে এবং প্রয়োজনে যাকে ইচ্ছে তাকে বদলি করতে পারবে। কিন্তু পুরোটাই নির্ভর করতে হয় সরকারি কর্মকর্তা ও সরকারের ওপরে। যে সরকার ইতিমধ্যে সমস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণ করেছে। সুতরাং সেই সরকারের ব্যক্তিদের দিয়ে নির্বাচন পরিচালনা অসম্ভব।’

মির্জা আলমগীর বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের সচিবের কথা শুনলে মনে হয় তিনিই প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তা। আর প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে মনে হয়, সবচেয়ে অসহায় ব্যক্তি। সকালে একটা বলেন, আর বিকেলে আরেকটা বলেন। এই ইসির অধিনে কিভাবে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন হবে?’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা ইসিতে গিয়ে বলেছিলাম, নির্বাচনের আগে সকল রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলোচনা করুন। আলোচনা করে ব্যবস্থা গ্রহণ করুন কিভাবে সুষ্ঠু নির্বাচন করা যায়। কিন্তু প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেছেন, আমার কোন এখতিয়ার নেই। আপনার এখতিয়ারটা কী? আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় বসে দেওয়া আপনার এখতিয়ার?’

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘কোন বিভ্রান্তের মধ্য কেউ যাবেন না। গোটা বাংলাদেশের মানুষ আজকে ঐক্যবদ্ধ। তারা এই সরকারের পরিবর্তন চায়। আর সেই পরিবর্তনটা চায় নির্বাচনের মধ্য দিয়ে। সুতরাং নির্বাচন অবশ্যই সকলের কাছে অংগ্রহণমূলক, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হতে হবে।

ফখরুল বলেন, ‘ঐক্যফ্রন্ট ২৩ তারিখ একটা জনসভা করতে চেয়েছিল। বলছে, নাশকতা হতে পারে। তাই অনুমতি দেওয়া যাবে না। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, চরমোনাই পীর সাহেবের একটি সভায় অনুমতি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আজকে রাস্তা-ঘাট বন্ধ করে সরকারি টাকায় গাড়ি-ঘোড়া নিয়ে জাতীয় পার্টি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভা করছে!’

আয়োজক সংগঠনের সহ-সভাপতি তাসমিয়া প্রধানের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, এনপিপির চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, জাগপার সহসভাপতি আবু মোজাফফর মো. আনাছ, সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমান, মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আসাদুর রহমান খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ জামাল উদ্দিন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।