একতরফাভাবে ভালোবাসেন বন্ধুকে?

বুধবার, অক্টোবর ১৭, ২০১৮

লাইফস্টাইল ডেস্ক : বন্ধুত্ব থেকে প্রেম? নাকি গভীর প্রেমের উথালপাথালের পর থিতু হওয়ার নাম বন্ধুত্ব? বন্ধুত্ব আর প্রেম, এই দুটো ব্যাপার কি আলাদা? মনস্তত্ত্ববিদেরা বলেন অনেকসময়ই প্রেমের আকর্ষণকে আমরা বন্ধুত্ব ভেবে গুলিয়ে ফেলি কারণ আমরা সাধারণত বন্ধুত্বের অনুভূতি আর প্রেমের অনুভূতিকে আলাদা করে দেখি।

দ্য নিউ সাইকোলজি অফ লাভ বইয়ে একটি সমীক্ষার কথা লিখেছেন মনস্তত্ত্ববিদ রবার্ট জে স্টার্নবার্গ ও কারিন ওয়েস। ওই সমীক্ষায় কলেজের ছাত্রছাত্রীদের কাছে প্রেমের ব্যাখ্যা জানতে চেয়েছিলেন তাঁরা। বেশিরভাগ ছাত্রছাত্রীই এ ব্যাপারে যা বলেছিলেন, তাতে প্রেমের চেয়ে বন্ধুতার দিকটিই বেশি করে উঠে এসেছিল এবং বেশিরভাগই নিজের বেস্ট ফ্রেন্ডের নাম বলতে গিয়ে প্রেমিক বা প্রেমিকার নামই বলেছিলেন। অর্থাৎ যাকে আপনি নিরীহ বন্ধুত্ব বলে মনে করছেন তার মধ্যেই মিশে থাকতে পারে প্রেমের চোরা স্রোত।

এবার ধরা যাক, কোনও এক ফুটফুটে সকালবেলায় ঘুম থেকে উঠে আপনি বুঝতে পারলেন যাকে এতদিন বন্ধুত্ব বলে ভাবছিলেন তা আসলে প্রবল প্রেমেরই নামান্তর। নিশ্চিতভাবেই এর পর আপনি চাইবেন সংশ্লিষ্ট মানুষটিকে নিজের মনের কথা জানাতে! যদি উনিও একই কথা মনে করেন তো মিটে গেল! কিন্তু যদি তা না করেন?

যদি বন্ধুত্ব থেকে প্রেমের পথে উত্তরণে তিনি রাজি না হন? শান্ত থাকুন। তাতে মহাভারত এমন কিছু অশুদ্ধ হয়ে যাবে না আর আপনারা দু’জনেই যদি প্রাপ্তমনস্ক হন, আপনাদের সম্পর্কেও বিশেষ কিছু পার্থক্য হওয়ার কথা নয়। এই গোটা পর্যায়টার ধাপগুলো একটু ঝালিয়ে নেওয়া যাক বরং!

প্ৰথম ধাপ: প্রত্যাখ্যান
গোটা ব্যাপারটার শুরু এই জায়গা থেকে। যে কথা বলছিলাম, কোনও এক মাহেন্দ্রক্ষণে আপনার উপলব্ধি হল বন্ধুর প্রতি আসলে আপনি মনে মনে প্রেমাসক্ত! আশায় দুরুদুরু বুকে গিয়ে ওঁর কাছে পাড়লেন সে কথা। অথচ আপনার সব আশায় ঠান্ডা জল ঢেলে তিনি জানিয়ে দিলেন আপনাকে উনি বন্ধু ছাড়া অন্য কোনও চোখে দেখেন না। বিশ্বাস করুন, মেনে নেওয়া ছাড়া এ ক্ষেত্রে বিশেষ কিছু করার নেই। প্রত্যাখ্যানের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হলে আপনার মানসিকতাতে একটু পরিবর্তন আনতে হবে। যুক্তি দিয়ে নিজের মনকে বোঝান, আবেগ নিয়ন্ত্রণে আনুন, বাস্তব পরিস্থিতিটাকে স্বীকার করে নিন। বাকি রইল বন্ধুত্ব বজায় রাখার প্রশ্ন। আপনারা দু’জনেই যদি পরিণতমনা হন, তা হলে বন্ধু থাকা অবশ্যই সম্ভব। কিন্তু সে ক্ষেত্রে নিজের মনেও কোনও বোঝা রাখা চলবে না। নিজের মনকে জিজ্ঞেস করুন ওঁর প্রেম বা বিয়ে আপনি সহ্য করতে পারবেন কিনা। উত্তর যদি ‘না’ হয়, তা হলে বন্ধুত্বকে বলি দিতেই হবে আপনার ভালো থাকার স্বার্থে।

দ্বিতীয় ধাপ: মন ভেঙে যাওয়া
প্রত্যাখ্যান সহ্য করার মানসিক কষ্ট শারীরিক কোনও আঘাতের যন্ত্রণার চেয়ে কোনও অংশে কম নয়৷ এই কষ্ট সামলাতে কয়েকটা দিন ছুটি নিন। শহরের বাইরে কোথাও বেড়াতে চলে যান। বন্ধুরও যদি আপনার প্রতি কোনও অনুভূতি থাকে, তিনি আপনার অনুপস্থিতি উপলব্ধি করবেন। কিন্তু তা যদি না হয়, তা হলে পরিস্থিতি মেনে নিন। আপনার অস্বস্তির কথা গোপন না করে বন্ধুকে জানান। তাঁকে বলুন আপনার খানিকটা সময় দরকার। তবে কোনও ব্যাখ্যা না দিয়ে পরিস্থিতি থেকে পালিয়ে যাবেন না।

তৃতীয় ধাপ: আমি কিসে কম?
তৃতীয় ধাপটা শুরু হয় যখন আপনার পছন্দের মানুষটি অন্য কোনও মেয়ের প্রেমে পড়েন। এমন পরিস্থিতি এড়াতে হলে আপনার কাছে একটাই উপায়। নিজের যুক্তিবুদ্ধি প্রয়োগ করুন। নিজেেক ওঁর জায়গায় কল্পনা করে তারপর পরিস্থিতি আবেগহীনভাবে যুক্তি দিয়ে বিশ্লেষণ করুন। অর্থাৎ গোটা ব্যাপারটা উলটোদিকে ঘুরিয়ে দিন। মনে করুন, উনি আপনাকে ভালোবাসেন কিন্তু আপনি অন্য কাউকে ভালোবাসেন। নিজেকে জিজ্ঞেস করুন, সে ক্ষেত্রে আপনি কী চাইতেন? আপনি কি ওঁকে বন্ধু হিসেবে পাশে চাইতেন? নাকি ওঁর সংস্রব এড়িয়ে চলতে পারলেই ভালো লাগত আপনার? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর পেলে হয়তো বাস্তবের মোকাবিলা করা আপনার পক্ষে একটু সহজ হতে পারে।

চতুর্থ ধাপ: মনের মানুষের বিয়ে
এটাই চূড়ান্ত ধাপ। এতদিন পর্যন্ত মনে মনে আপনি একটা আশা মনে মনে লালন করে এসেছেন। ভেবেছেন আপনাদের মতো আদর্শ জুটি আর দুটো হয় না। কিন্তু এবার আপনার সব কল্পনা কাচের ঘরের মতো চুরমার হয়ে ভেঙে যাওয়ার পালা। আরও সমস্যার কথা হল, বন্ধু হিসেবে আপনাকে ওঁর বিয়েতে যেতে হবে, ছবি তোলার সময় জোর করে হাসতেও হবে। এমন একটা পরিস্থিতির মুখে কেউ বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন, কেউ প্রচণ্ড রেগে যান। ডিপ্রেশনে আক্রান্ত হওয়াও অসম্ভব নয়। মনস্তত্ত্ববিদেরা অবশ্য একটা সহজ পথের কথা বাতলাচ্ছেন। বন্ধুকে সরাসরি জানান বিয়েতে উপস্থিত থাকা আপনার পক্ষে কেন সম্ভব নয়। সম্ভব হলে কিছুদিন বন্ধুর থেকে দূরত্বও বজায় রাখুন। তবে নিজেকে একেবারে গুটিয়ে নেওয়াও ঠিক নয়। সাময়িক ধাক্কাটা কেটে যাওয়ার পর যতটা সম্ভব একটা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করুন, বাস্তবের মাটিতে পা রেখে পরিস্থিতি যাচাই করে নিন। যদি পরিস্থিতি খুব অসহ্য হয়ে ওঠে, নিজের স্বার্থে ও বন্ধুর স্বার্থে সম্পর্কটা চুকিয়ে দিন। তাতে দু’জনেই বাকি জীবনটা স্বস্তিতে কাটাতে পারবেন।