জয়কে তিনবার ডেকে নিয়ে শাসিয়েছে স্টেট ব্যাংক: প্রধানমন্ত্রী

রবিবার, অক্টোবর ১৪, ২০১৮

ঢাকা : পদ্মা সেতু নির্মাণ বন্ধ করতে দেশ-বিদেশের নানা ষড়যন্ত্র ও বাধার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এই সেতু নির্মাণ করতে হিয়ে আমাদেরকে অনেক অপমান সইতে হয়েছে। আমাকে ও আমার পরিবারকে অনেক হুমকি ও লাঞ্চনার শিকার হতে হয়েছে। আমার ছেলে জয়কে (সজীব ওয়াজেদ জয়) তিন বার ডেকে নিয়ে শাসিয়েছে মার্কিন স্টেট ব্যাংক।

আজ রোববার মুন্সিগঞ্জের মাওয়ায় পদ্মা সেতুর নামফলক উন্মোচন ও কয়েকটি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে এক সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পদ্মা সেতু নির্মাণ করতে আমাদের নামে অনেক বদনাম শুনতে হয়েছে, অনেক বাধা বিপত্তি, অনেক কথা আমাদের শুনতে হয়েছে। অনেক দুর্নাম আমাদের বিরুদ্ধে দেওয়া শুরু হয়েছে। আমি আমার ছোটবোন, আমার ছেলে মেয়ে প্রত্যেককে এসব বিষয়ের জবাব দিতে হতো। আমেরিকার ইন্টেলিজেন্স এ নিয়ে তদন্ত করেছে।

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা জয়কে ডেকে নেওয়ার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমেরিকার স্টেট ব্যাংক আমার ছেলে জয়কে তিনবার ডেকে নিয়ে তাকে শাসিয়েছে। জয় বলেছে, আপনারা দেখেন, আমরা কি করেছি। যদি প্রমাণ করতে পারেন, আমরা দেখেন। এভাবে আমাদের সবার উপর তারা আঙ্গুল তুলেছে। এসবের পরও ভাবলাম যে, এই জায়গায় আমরা থামবো না। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাবা-মা-ভাই সব হারিয়ে আমি জনগণের ওপর আস্থা রেখেছি। তাদের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করে চলেছি। জনগণের আস্থা ছিল বলেই পদ্মা সেতু করতে পেরেছি।

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা প্রমান করেছি, এবং আপনারা জানেন যে, এটা নিয়ে মামলা হয়েছে, কানাডা ফেডারেল কোর্ট সোজা বলে দিয়েছে, ওয়ার্ল্ড ব্যাংক যে সব অভিযোগ এনেছে, সব অভিযোগ ভূয়া, সমস্ত অভিযোগ মিথ্যা, কোন দুর্নীতির কোন চিন্হ পাওয়া যায় নাই পদ্মা সেতু প্রকল্পে। আমাদের জয় হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পদ্মা সেতু নিয়ে যেসব অভিযোগ, অপমান সইতে হয়েছে সেগুলো আমাদের দেশের লোকজনের ষড়যন্ত্রে। দেশের মানুষকে এই জিনিসটি মনে রাখতে হবে। যারা দেশের উন্নয়নের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করতে পারে তারা দেশের কল্যাণে কাজ করতে পারে না।

শেখ হাসিনা বলেন, যারা গরীবের সুদের টাকায় বড়লোক হয় তাদের আবার কিসের দেশপ্রেম। তাঁদের দেশপ্রেম থাকতে পারে না। দেশপ্রেম থাকলে দেশের উন্নয়ন বিরোধী সিদ্ধান্ত নিতে পারতো না।

সুধী সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক, নৌমন্ত্রী শাজাহান খান প্রমুখ।