শনির দশা পেয়ে বসেছে রোনালদোকে

শনিবার, অক্টোবর ১৩, ২০১৮

স্পোর্টস ডেস্ক : সময়টা ভালো যাচ্ছে না পতুর্গিজ তারকা ফুটবলার ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর। বিশ্বকাপে দলের ব্যর্থতার পর দলবদল। দীর্ঘদিন ধরে খেলা প্রিয় দল রিয়াল মাদ্রিদ ছেড়ে যোগ দিয়েছেন জুভেন্টাসে। এরমধ্যে তাঁর বিরুদ্ধে উঠে এসেছে মার্কিন এক মডেলের ধর্ষণের অভিযোগ।

এই অভিযোগের যখন তদন্ত শুরু তখন আরো তিন তরুণী একই অভিযোগ এনেছেন সিআর সেভেনের বিরুদ্ধে। বলা চলে শনির দশা পেয়ে বসেছে রোনালদোকে।

হোটেল কক্ষে রোনালদোর বিরুদ্ধে জোর করে অভিযোগ তুলেছেন মডেল ক্যাথরিন মায়োরগা। তাঁর আইনজীবীর অভিযোগ তিনি এমন আরো তিন নারীর সন্ধান পেয়েছেন, যারা রোনালদোর কাছে ধর্ষণ কিংবা যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন। আইনজীবীরা তাঁদের সঙ্গে কথা বলছেন বলে জানা গেছে।

নতুন খোঁজ পাওয়া তিনজনের মধ্যে একজন দাবি করেছেন, রোনালদো তাঁকে পার্টির পরে ধর্ষণ করেছেন। এই অভিযোগ অনেকটা ক্যাথরিন মায়োরগার অভিযোগের সঙ্গে মিলে যায়। দ্বিতীয় নারী অভিযোগ করেছেন, তিনি রোনালদোর কাছে ‘শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত’ হয়েছেন।

তবে তৃতীয় নারী তেমন মুখ খুলেননি। কারণ, তিনি জানিয়েছেন, কোনো কিছু প্রকাশ না করার ব্যাপারে রোনালদোর সঙ্গে তাঁর চুক্তি হয়েছে! এমনকি কারিমা এল মাহরুগ নামের এক তরুণী জানিয়েছেন, ১৭ বছর বয়সেই তিনি রোনালদোর সঙ্গে বিছানায় গেছেন।

এটিকেও ধর্ষণ বলে অভিহিত করেছেন এই তরুণী। তবে, দ্বিতীয় ও তৃতীয় তরুণী রোনালদোর বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ আনছেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। বাদী পক্ষের আইনজীবী লেসলি স্টোভল বলেছেন, ‘আমি এসব তথ্য যাচাই করে দেখছি।’ সবমিলিয়ে শনির দশা পেয়ে বসেছে রোনালদোকে।

রোনালদোর আইনজীবী ক্রিস্টিয়ানসেন ২০০৯ সালের ঘটনাকে ধর্ষণ বলে অস্বীকার করেছেন, কারণ সেখানে সবকিছুই দুজনের সম্মতিতে হয়েছিল।

মায়োরগা অভিযোগ, তাঁর সঙ্গে রোনালদো পরিচয় হয় এক বিখ্যাত নাইটক্লাবে। তখন মায়োরগা ওই নাইটক্লাবে চাকরি করতেন। ২০০৯-এ রোনালদো সেই সময় ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেড ছেড়ে বিশ্বের সবচেয়ে দামি খেলোয়াড় হিসেবে রিয়াল মাদ্রিদে যাওয়ার জন্য পা বাড়িয়েছেন।

সে যাই হোক, একটা সময়ের পর সেই নাইটক্লাবে দুজনের মধ্যে বন্ধুত্ব হয়ে যায়। একপর্যায়ে তাঁকে নিজের হোটেলের ঘরে আসার আমন্ত্রণ জানান সিআরসেভেন। আমন্ত্রণ রক্ষা করতে গিয়েই মহাবিপদে পড়েন মায়োরগা।

দ্য গার্ডিয়ান-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, মায়োরগা বলেছেন, `রোনালদো আমাকে ওঁর গোপনাঙ্গ ৩০ সেকেন্ডের জন্য ধরতে বলে। আমি প্রথম হেসে উড়িয়ে দেই। বলি, তুমি নিশ্চয়ই মজা করছ! রোনাল্ডোর যৌন আবেদনে অনেকে মুগ্ধ। কিন্তু তখন ওঁর ভিতরে থাকা নোংরা মানুষটার পরিচয় পাই।

মায়োরগা বলেন, ও (রোনালদো) আমাকে অ্যানাল সেক্সের প্রস্তাব দেয়! বিপদ বুঝতে পেরে ছাড়া পাওয়ার আশায় আমি বড়জোর চুম্বনে রাজি হই। কিন্তু সে আরও উত্তেজিত হয়ে পড়ে। আমাকে হোটেল রুমে আটকে রাখে ও। একপর্যায়ে জোর করে আমার সঙ্গে সে বিকৃত যৌনতা শুরু করে।

আমি ওর কাছে অনুরোধ করি। কিন্তু ও তখন কোনও কিছু শোনার মতো অবস্থায় ছিল না। ও যেন মত্ত হয়ে উঠেছিল। নির্যাতনের পরও ও আমাকে রুম থেকে বেরোতে দিচ্ছিল না। শেষে অনেক কষ্টে বেরিয়ে আসি। পরদিন থানায় গিয়ে পুলিশে অভিযোগ জানাই।

অবশ্য এবারই প্রথম নয়। বছর দেড়েক আগে এই ম্যাগাজিন আরও একবার মায়োরগার পক্ষ থেকে রোনালদোর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ তোলে। সেবারও সে অভিযোগ ধোপে টেকেনি। আবারও সেই একই অভিযোগ তোলায় রোনালদোর আইনজীবী ম্যাগাজিনের বিপক্ষে আদালতে যাওয়ার হুমকি দিয়েছেন।