মুখ থুবড়ে পড়ল ইলার হেলিকপ্টার!

শনিবার, অক্টোবর ১৩, ২০১৮

বিনোদন ডেস্ক : হেলিকপ্টার ইলায় কাজলের চরিত্রটা পরিবারে বিনোদনের উৎস। কিন্তু শুধুমাত্র কাজল একাই যে ছবিটা টেনে নিয়ে যেতে পারবেন, তা তো নয়! ছবির চিত্রনাট্য এতটাই দুর্বল যে শেষ পর্যন্ত কী যে হতে চলেছে তা বুঝতে মাথার ঘাম পায়ে ফেলতে হয় দর্শকদের! এ কথা বলা যেতে পারে হেলিকপ্টার ইলা একেবারেই মন জয় করতে পারেনি।

অজয় দেবগনের যৌথ প্রযোজিত হেলিকপ্টার ইলা মা ও ছেলের সম্পর্কের গল্প। কিন্তু কাজল এখানে এমন একজন মা যে শুধুমাত্র তার টিন এজ ছেলের জীবনে সমস্ত কিছু কড়া নজর রাখে এমন নয়, সে নিজের কেরিয়ার এবং জীবনটাও সামলে উঠতে পারেনি। ফলে, ছবিতে একজন সিঙ্গেল মাদারের জীবনের কাহিনী তুলে ধরার চেষ্টা করলেও সঠিক বার্তা দর্শকের কাছে পৌঁছে দিতে পারেননি পরিচালক।

আনন্দ গান্ধীর গুজরাটি নাটক অবলম্বনে তৈরি হেলিকপ্টার ইলায় কাজল নিজের চরিত্রে যথাযথ অভিনয় করলেও কিছু একটা খামতি যেন থেকে গেছে। একজন মধ্য চল্লিশের মহিলা যিনি প্রায় দু দশক পর আবার নিজের পড়াশোনা শুরু করতে চান- এমন একজন মায়ের চরিত্রে কাজল যথেষ্ট এনার্জি সহকারেই অভিনয় করেছেন। কিন্তু তবুও দর্শকদের খুব একটা মন জয় করতে পারেননি।

ছবিতে কাজল এমন একজন মহিলা যিনি ছেলেকে বড় করে তোলার জন্য নিজের কেরিয়ার এবং সমস্ত চাওয়া পাওয়া বিসর্জন দিয়েছেন। কিন্তু ছেলের যখন টিনএজ শেষ হতে চলেছে এমন সময়ও তার জীবনে ও ব্যক্তিগত সমস্ত কিছুতেই হস্তক্ষেপ করে প্রতিনিয়ত ছেলেকে লজ্জায় ফেলে তার চক্ষুশূল হয়ে পড়ে কাজল। তারপর ছেলে ঋদ্ধি সিদ্ধান্ত নেয় সে সমস্যার সমাধান করার- এই হল হেলিকপ্টার ইলা গল্পের সারমর্ম।

ছবিতে কাজল একজন অত্যন্ত অবসেসড মায়ের চরিত্রে অভিনয় করেছেন, যিনি ছেলের সমস্ত কিছুতে কড়া নজর রাখেন। প্রতিদিন ছেলে বাড়ি থেকে বেরোনোর আগে মনে করিয়ে দেন টিফিন বক্স ফেরত নিয়ে আসার কথা। যার ফলে ক্লান্ত হয়ে ওঠে ছেলে ভিভান (ঋদ্ধি সেন)।

হেলিকপ্টার ইলা ছবির শুরুতেই দেখা যায় ইলা রায়তুরকার (কাজল) কলেজে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তারপর দেখা যায় তিনি ছেলে ভিভানের ক্লাসেই ভর্তি হয়েছেন। তারপরেই ফ্ল্যাশব্যাকে ভেসে ওঠে নব্বইয়ের দশকের কোনও এক সময়ের ছবি। যেখানে ইলা ও গীতিকার অরুণের (টোটা রায়চৌধুরী) প্রেম ও বিয়ে ও সংসারের দৃশ্য দেখে যায়। কিন্তু আচমকাই সে ইলা ও ভিভানকে ছেড়ে একদিন চলে যায়।

নব্বইয়ের দশকের পটভূমিতে এই ছবিতে বেশ কিছু হিন্দি রেট্রো গান ব্যবহার করা হয়েছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল ‘রুক রুক রুক, আরে বাবা রুক’, যা ইতিমধ্যেই অত্যন্ত জনপ্রিয়তা লাভ করেছে।

ইলার আত্ম উপলব্ধি ও পরিবর্তন ফুটিয়ে তুলতে ছবিতে অসংখ্য গান ব্যবহার করা হলেও গানের লিরিক্সকে চাপিয়ে গিয়েছে ছবির মেলোড্রামা। ফলে, মূল ভাবনা ফুটে ওঠেনি ঠিকভাবে।

নেহা ধুপিয়া একজন নাটকের প্রশিক্ষকের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন, যিনি প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত নাটক করে ফেলেছেন বলেই মনে হয়েছে।

তবে যা না বললেই চলে না, হেলিকপ্টার ইলা অতিনাটুকে হয়ে গিয়ে ছবির হাস্যরস চাপা পড়ে গিয়েছে। নাটুকে ভাব আর একটু কম হলে হয়তো ছবির মূল ভাব সঠিকভাবে ব্যক্ত হতে পারত। সবশেষে এ কথাই বলতে হয়, এই হেলিকপ্টার উড়তে গিয়ে মাঝপথে মুখ থুবড়ে পড়েছে। সূত্র: এনডিটিভি