বিএনপির ৭ হাজার নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ৩৬ মামলা

শনিবার, অক্টোবর ১৩, ২০১৮

ঢাকা : নেত্রকোনা জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক এমপি আশরাফ উদ্দিন খান, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ারুল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম মনিরুজ্জামান দুদু এবং জেলা ছাত্র দলের নেতৃবৃন্দসহ জেলার ১০ উপজেলার মৃতব্যক্তিসহ অজ্ঞাত নামে প্রায় ৭ হাজার বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদল ও অন্যান্য অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে গত ২০দিনে ৩৬টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিশেষ ক্ষমতা আইনে এসব মামলায় পুলিশ বাদী হয়েই এ মামলা গুলো দায়ের করেছে।

জেলা বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, জেলা বিএনপির, যুবদল, ছাত্রদল ও অন্যান্য অঙ্গসংগঠনসহ জেলার ১০টি উপজেলার নেতাকর্মীসহ অজ্ঞাত নামে ৭-৮ হাজার বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা কর্মীদের বিরুদ্ধে নেত্রকোনা মডেল থানাসহ জেলার ১০ থানায় এসব মামলা দায়ের করা হয়েছে। ইতিমধ্যে অনেক বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা কর্মীরা গ্রেফতার এড়াতে বাড়ি ঘর ছেড়েছেন।

নেত্রকোনা মডেল থানায় চারটি মামলার মধ্যে তিনটিতেই জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক এমপি মুক্তিযোদ্ধা আশরাফ উদ্দিন খান, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ারুল হক সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম মনিরুজ্জামান দুদু, জেলা ছাত্রদলের অন্যান্য নেতৃবৃন্দসহ ৬৭২ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত প্রতিটি মামলায়ই ৭০/৮০ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে।

জেলার দুর্গাপুর উপজেলা বিএনপির উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও জেলা বিএনপির সহ সভাপতি ইমাম হাসান আবু চান, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাপদক আবদুল আউয়ালসহ ৬৬ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত প্রতিটিতে ৭০/৮০জনকে আসািম করে দুর্গাপুর থানায় দুইটি মামলা।

বারহাট্টা উপজেলা বিএনপির সভাপতি রহমত আলী, যুবদলের সভাপতি আরিফউল্লাহ সোহেল, উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ফারুক আহমেদসহ ৬৫ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত ৯০জনের বিরুদ্ধে বারহাট্টা থানায় দুইটি মামলা।

উল্লেখ্য যে, নেত্রকোনা বারহাট্টা থানার মামলা নং ২, তারিখ-০২/০৯/২০১৮ রাজনৈতিক মামলায় মৃত মিলন আহমেদকেও ১৯ নং আসামি করা হয়েছে। মিলন আহমেদ গত দেড় বছর পূর্বে মৃত্যু বরণ করেছে।

খালিয়াজুরীতে বিএনপি নেতা আবদুর রহমান, সোহেল মিয়াসহ ১৯ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত শতাধিক আসামি করে খালিয়াজুরী থানায় দুইটি মামলা।

মোহনগঞ্জ পৌর বিএনপির সভাপতি ফজলুল হক মাসুম উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক টিপু সুলতানসহ ১১৪ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত ৭০/৭৫ জনের নামে মোহনগঞ্জ থানায় দুইটি মামলা।

আটপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি খায়রুল কবীর তালুকদার, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা হাসান বিন সোহাগ, এমজি রাসেল, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ আশরাফ তুহিন, বিএনপি নেতা খসরু নোমানসহ ১৫৪ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত ৭০/৮০ আসামি করে দুইটি মামলা।

মদন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান চৌধুরী, বিএনপি নেতা ও উপজেলা চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম, জামায়াত নেতা ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান রুহুল আমিনসহ ২৯১জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত ৮০/৯০ আসামি করে মদন থানায় পৃথক তিনটি মামলা।

পূর্বধলা উপজেলা বিএনপির সভাপতি বাবুল আলম তালুকদার, উপজেলা বিএনপির যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ইসতিয়াক আহমেদ বাবু, উপজেলা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি আবুল কাসেমসহ ৮৭ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত ৭০/৮০ সংখ্যক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে পূর্বধলা থানায় তিনটি মামলা।

কলমাকান্দা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল খায়ের, সাধারণ সম্পাদক বাবুল আলম পাঠানসহ ২২৬ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত ২০০/২৫০ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে কলমাকান্দা থানায় দুইটি মামলা।

কেন্দুয়া উপজেলা যুবদলের সভাপতি ইয়াকুব আলী ভুইয়া জুয়েল, সাধারণ সম্পাদক সফিকুল ইসলাম সফিকসহ ৯৭ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত ১০০/১৫০ জনকে আসামি করে কেন্দুয়া থানায় মামলা দায়ের করেছে।

নেত্রকোনা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ারুল হক ও সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম মনিরুজ্জামান দুদু বলেন, আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে তাদের দলীয় নেতাকর্মীরা যাতে আন্দোলন সংগ্রামে মাঠে না নামতে পারে সে জন্য কোন ধরনের ঘটনা ছাড়াই গায়েবি-মিথ্যে মামলায় আসামি করে অহেতুক হয়রানি করা হচ্ছে।এসব মামলা প্রত্যাহারের জন্য তারা সরকারের নিকট দাবি জানান।

মামলাগুলো প্রকাশ হওয়ার পর জনমনে মামলার বিষয় সম্পর্কে হাস্য ও রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে বলে নেতৃবৃন্দের অভিযোগ।নেত্রকোনায় মানবাধিকার নিয়ে কাজ করেন অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম বলেন, ইতিমধ্যে জেলা সদরসহ কোথাও কোন নাশকতা মুলক কোন ঘটনাই ঘটেনি।এগুলো আইন ও মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন।

নেত্রকোনা পুলিশ সুপার জয়দেব চৌধুরী বিশেষ ক্ষমতা আইনে পুলিশ এ্যাসল্টের অভিযোগে জেলার ১০ থানায় বেশ কিছু মামলা হয়েছে। মামলার আসামিদের গ্রেফতারের জন্য চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক এমপি আশরাফ উদ্দিন খান, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ারুল হক, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ফরিদ হোসেন বাবু ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দসহ ২৬৫ জন বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদল নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে নেত্রকোনা মডেল থানায় মামলা হয়েছে। নেত্রকোনা মডেল থানার এসআই তপন চন্দ্র বাকালী বাদী হয়ে বুধবার নাশকতা সৃষ্টির পায়তারার অভিযোগে বিশেষ ক্ষমতা আইনে এই মামলা করেন।

অভিযোগে জানা গেছে, জেলা শহরের কুরপাড় এলাকায় বিএনপি দলীয় নেতাকর্মীরা গত বুধবার রাতে সরকারী স্থাপনা ও জনসাধারণের জানমালের নিরাপত্তা বিপন্ন করার লক্ষ্যে জড়ো হয়ে পরিকল্পনা করছিল। পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ ঘটনায় নেত্রকোনা মডেল থানার এসআই তপন চন্দ্র বাকালী বাদী হয়ে বুধবার রাতে নাশকতা সৃষ্টির পায়তারার অভিযোগে বিশেষ ক্ষমতা আইনে এই মামলা করেন।

পুলিশ এ ঘটনায় গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত জেলা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি ওয়ারেস উদ্দিন ফারাস, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খালিদ সাইফুল্লাহ মুন্না, সাবেক ছাত্রনেতা নুরুদ্দীন রানা মাখনসহ ১৫জনকে গ্রেফতার করে। পুলিশ তাদেরকে আদালতে পাঠিয়েছে।

নেত্রকোনা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. বোরহান উদ্দিন খান মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মামলার পনেরজন আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। বাকী আসামিদের গ্রেফতারের জন্য চেষ্টা চালানো হচ্ছে।