জনগণ বিএনপিকে লাল কার্ড দেখিয়ে দেবে: নাসিম

শনিবার, অক্টোবর ১৩, ২০১৮

ঢাকা: আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, ‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কেউ বানচাল করতে পারবে না। নির্বাচনের মাঠে নামেন। ফাউল করার চেষ্টা করবেন না, তাহলে জনগণ আপনাদের লাল কার্ড দেখিয়ে দেবে। শেখ হাসিনা নির্বাচনী মাঠে গোল দিতে মিস করবেন না। আগামী নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নিলে তাদেরকে বাটি চালান দিয়েও খুজে পাওয়া যাবে না। ’

তিনি শনিবার বিকেলে খুলনার শহীদ হাদিস পার্কে ১৪ দল খুলনা মহানগর ও জেলা শাখা আয়োজিত মহাসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, চক্রান্ত শুরু হয়ে গেছে। আওয়ামী লীগ যখন সফল হয় তখন চক্রান্ত শুরু হয়। নির্বাচন হবে কোনো হুমকি ধমকি দিয়ে কাজ হবে না। আগামী নির্বাচন হবে সংবিধান অনুসারে। নির্বাচনী সরকারের অধীনেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনকে বানচাল করতে বিএনপি ভাড়াটে নেতাদের মাঠে নামিয়েছে। বিএনপি খুনীদের দোসর। খালেদা জিয়া ক্ষমতায় থেকে খুনীদের বিচার করেনি। এমনকি তার স্বামী জিয়াউর রহমানের খুনীদেরও বিচার করেনি।

মো. নাসিম খুলনাবাসীর উদ্দেশে বলেন, ‘খুলনা বঙ্গবন্ধু স্মৃতিবিজড়িত স্থান। শেখ নাসেরের স্মৃতিবিজড়িত স্থান। সামনের নির্বাচন ৭০ সালের নির্বাচনের মত গুরুত্বপূর্ণ। ৭০–এর নির্বাচনের পূর্বে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন তোমরা আমাকে একটি ভোট দাও আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেব। তিনি কথা রেখেছিলেন। শেখ হাসিনার স্বপ্নের পদ্মা সেতু আজ বাস্তবায়নের পথে। পদ্মা সেতুর বাস্তবায়ন হলে খুলনা তথা দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়ন হবে।

আওয়ামী লীগ খুলনা মহানগর শাখার সভাপতি সিটি মেয়র তালুকদার খালেকের সভাপতিত্বে মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সাবেক শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া বলেন, ‘আমরা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৪ দলের সাথে স্বাধীনতা বিরোধীদের প্রতিরোধ করতে ঐক্যবদ্ধ হয়েছি। শেখ হাসিনা অসাম্প্রদায়িক মতাদর্শে বিশ্বাসী। শেখ হাসিনা শ্রমিক বান্ধব সরকার প্রধান। দেশকে শিল্প সমৃদ্ধ করে প্রতিষ্ঠা করতে শেখ হাসিনার বিকল্প নেই। বর্তমানে দেশে দুটি ধরা স্পষ্ট। একটি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মুক্তিযদ্ধের পক্ষের শক্তি। অন্যটি খালেদা জিয়া, ড. কামাল, বি চৌধুরী, পক্ষে জামায়াতসহ স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি।’

জাসদ (আম্বিয়া) সভাপতি নুরুল আম্বিয়া বলেন, ‘১৪ দলের নেতৃত্বের প্রতি আস্থা রাখেন। যে ধারায় ১৪ দল শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এগিয়ে যাচ্ছে তাতে বাংলাদেশ এক সময় উন্নত দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাবে। বাংলাদেশকে এক সময় তলাবিহীন রাষ্ট্র বলা হতো। সেই বাংলাদেশ আজ মধ্যম আয়ের দেশ। উন্নয়নের রোল মডেল।’

ওযার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, ‘খালেদা জিয়া দেশকে জঙ্গিরাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে ভাড়াটে নেতাদের একত্রিত করেছে। বিএনপি স্বাধীনতা বিরোধীদের মন্ত্রীসভায় স্থান দিয়ে মীরজাফরের ভূমিকা রেখেছে। স্বাধীনতা বিরোধী, জঙ্গিবাদের দোসরদের নিয়ে যারা ঐক্য করেছে তারা মীর জাফরের দল। শেখ হাসিনা মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী রাজাকারদের বিচার করেছেন। আগামীতে মীরজাফরদের বিচার করবেন।’

সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেত্রী ও সাবেক শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান এমপি, ডা. শাহাদাত হোসেন, এস এম কামাল হোসেন, ড. নীম চন্দ্র ভৌমিক, অসীত বরন রায়, শেখ শহিদুল ইসলাম, রেজাউর রশিদ খান, শফিকুল হামিদ চন্দন, অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান প্রমুখ।