গুজব নির্ভর পুঁজিবাজার, আইন থাকলেও প্রয়োগ নেই!

বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১১, ২০১৮

এস এম আহসান, ঢাকা: নানা ধরনের গুজবে নতুন করে অস্থিরতার সৃষ্টি হচ্ছে পুঁজিবাজারে। এসব গুজবে আক্রান্ত হয়ে দেশের দুই পুঁজিবাজারেই সূচক ও দামের ওঠানামা চলছে। গুজব প্রতিরোধে নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) প্রণীত আইন থাকলেও তার প্রয়োগ হচ্ছে না বলে অভিযোগ করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

তাছাড়া দেশের পুঁজিবাজার একটি গুজবভিত্তিক বাজার। অপ্রমাণিত খবরগুলোকেই মূলত গুজব বলা হয় এবং যা লোকমুখে ছড়ায়। আর গুজবনির্ভরতা বা গুজব পৃথিবীর সব মার্কেটেই থাকে কিন্তু আমাদের দেশে হয়তো এর প্রভাব অনেক বেশি। গুজবের কারণে বাজারে যে ঘটনাগুলো ঘটে এবং এটির যখন সত্যতা প্রমাণ হয়, তখন সেটি আর গুজব থাকে না। সত্য ঘটনায় পরিণত হয়। নানা ধরনের গুজবে নতুন করে অস্থিরতার সৃষ্টি হচ্ছে পুঁজিবাজারে। এসব গুজবে আক্রান্ত পুঁজিবাজার। ফলে বাজার আজ ভাল তো কাল খারাপ।

বাজার সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, বর্তমানে মূল্য সংবেদনশীল তথ্য বা কোম্পানির মৌলভিত্তি নয়, বরং শেয়ারের দর ওঠানামা করছে গুজবের ভিত্তিতে। গুজবে কান দিয়েই পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার লেনদেন করছেন বিনিয়োগকারীরা। অথচ গুজব প্রতিরোধে সুস্পষ্ট আইন থাকা সত্তে¡ও বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো এক্ষেত্রে উদাসীন। এমনকি আইনে গুজব সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে দন্ডের বিধানও রয়েছে।

সম্প্রতি বাজারে গুজবের ধরন একটু পরিবর্তিত হয়েছে। এর আগে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি আয় বৃদ্ধির আগাম খবর, ডিভিডেন্ডের খবর, সম্পদ পুনর্মূল্যায়ন, রাইট শেয়ার, বোনাস শেয়ার, ব্যবসার ধরন পরিবর্তন, ব্যবসার সম্প্রসারণ ইত্যাদি বিষয়ে গুজব ছড়িয়ে শেয়ারের দাম বাড়ানো হতো। এগুলো মূল্য সংবেদনশীল তথ্য হওয়ায় খুব সহজেই বিনিয়োগকারীরা প্রভাবিত হতেন।

গুজবের পুঁজিবাজার সর্ম্পকে অধ্যাপক মুহাম্মদ মহসীন বলেন, দেশের গুজবনির্ভরতা বা গুজব পৃথিবীর সব মার্কেটেই থাকে কিন্তু আমাদের দেশে হয়তো এর প্রভাব অনেক বেশি। গুজবের কারণে বাজারে যে ঘটনাগুলো ঘটে এবং এটির যখন সত্যতা প্রমাণ হয়, তখন সেটি আর গুজব থাকে না। সত্য ঘটনায় পরিণত হয়।

(30)এখন প্রশ্ন হচ্ছে, কাদের থাকে এই গুজব সংগ্রহ করার ক্ষমতা? যাদের থাকে, তারা কোনো না কোনোভাবে ইনসাইডার। আর ইনসাইডাররা যখন উপকৃত হতে চান, তখন গুজবটি বাজারে ছড়ানোর আগেই তারা অবস্থান নেন। যখন অনেক মানুষকে গুজবে আকৃষ্ট করে টেনে আনা সম্ভব হয়, তখন সেখান থেকে তারা কেটে পড়েন এবং যখন এটি খবর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়, তখন দেখা যায় ওই গুজবভিত্তিক শেয়ারটির পতন হয়।

আইসিএবির কাউন্সিল মেম্বার মো. শাহদাৎ হোসেন বলেন, একটি শেয়ারের প্রকৃত মূল্য হচ্ছে তার নিট অ্যাসেট ভ্যালু যা তাই এবং সেটুকুই তার মূল্য হওয়ার কথা। কিন্তু বর্তমান বাজারে প্রতিদিন শেয়ার কেনাবেচা হচ্ছে; ফলে এর মূল্য নির্ভর করে চাহিদা ও সরবরাহের ওপর।

সরবরাহ কম কিন্তু চাহিদা বেড়ে গেলে শেয়ারটির মূল্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে বেড়ে যায়। উল্টো আবার চাহিদা কম এবং সরবরাহ বেড়ে গেলে একইভাবে শেয়ারদর পড়ে যায়। আর কোনো শেয়ারের চাহিদা তৈরি হওয়া উচিত কোম্পানির অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের বিশ্লেষণের ওপর।

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের কমিশনার হেলাল উদ্দিন নিজামী বলেন, ‘নির্বাচনকে সামনে রেখে শেয়ারবাজার পতন নিয়ে বিভিন্ন গুজব রটানো হচ্ছে। এই যে গুজবগুলো রটছে, এ ব্যাপারে আমাদের সচেতন থাকতে হবে। এগুলো বন্ধ করতে হবে। এগুলো বন্ধে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন দ্রুত পদক্ষেপ নিবে।

অর্থনীতিবিদ আবু আহমেদ বলেন, বাজারে গুজব এ আর নতুন কিছু নয়। তবে এ থেকে বের হতে পারছে না কেন সে ব্যাপারে নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (এসইসি) আরও সজাগ হতে হবে।