৪ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকি শাশা ডেনিমসের

মঙ্গলবার, অক্টোবর ৯, ২০১৮

ঢাকা: ২০১১ থেকে ২০১৬ সালের জুন পর্যন্ত ৬ বছরে সুদসহ ৪ কোটি টাকারও বেশি ভ্যালু এডেড ট্যাক্স (ভ্যাট) ফাঁকি দিয়েছে শাশা ডেনিমস লিমিটেড। ভ্যাট গোয়েন্দার এক তদন্ত প্রতিবেদনে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
ইতোমধ্যে নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর থেকে ভ্যাট আদায়ের জন্য দাবিনামা জারি করা হয়েছে। তবে এসব বিষয়ে শাশা ডেনিমস কর্তৃপক্ষকে দুবার শুনানিতে ডাকলেও তারা সাড়া দেয়নি। সর্বশেষ কোম্পানির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আজ বৃহস্পতিবার আরেকটি শুনানির দিন ধার্য রয়েছে। এবার শুনানিতে অংশ না নিলে নথি অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে কারণ দর্শানোর নোটিসে জানানো হয়েছে।
সূূত্র জানায়, ২০১২ সালে শাশা ডেনিমসের অপরিশোধিত ভ্যাটে ফাঁকির পরিমাণ ৪৩ লাখ ৩৭ হাজার ৪৯২, ২০১৩ সালে ৪২ লাখ ৯৬ হাজার ৩১১, ২০১৪ সালে ৫৭ লাখ ৪১ হাজার ৫৮৫, ২০১৫ সালে ৬৩ লাখ ৬৪ হাজার ৫৯৪, ২০১৬ সালের জানুয়ারি-জুন পর্যন্ত ৫৬ লাখ ১৩ হাজার ৫৮৪ টাকা। অর্থাৎ ২০১২ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৬ সালের জুন পর্যন্ত শাশা ডেনিমস মোট ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে ২ কোটি ৬৩ লাখ ৫৩ হাজার ৫৬৯ টাকা। ভ্যাট আইনে ২ শতাংশ মাসিক হারে এর সুদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৭৮ লাখ ৬৫ হাজার ৬৫৮ টাকা। এর আগে ২০১১ সালের অপরিশোধিত ভ্যাট ছিল ২৮ লাখ ২৯ হাজার ৬৬১ টাকা এবং সুদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪০ লাখ ৭৪ হাজার ৭১২ টাকা।
আইন অনুযায়ী, অপরিশোধিত ভ্যাট সরকারি কোষাগারে জমা না করলে ভ্যাট আইন ১৯৯১-এর ৩৭ এর উপধারা ৩ অনুযায়ী মাসিক ২ শতাংশ হারে সুদ দিতে হবে। এ প্রসঙ্গে শাশা ডেনিমসের চিফ ফিন্যান্সিয়াল অফিসার (সিএফও) ভোরের কাগজকে বলেন, ভ্যাট আইন আসলে খুব জটিল আইন। আমাদের কাছে রাজস্ব পাওনা আছে তবে এর পরিমাণ এত বেশি না। আগামীকাল (আজ) বৃহস্পতিবার শুনানি রয়েছে। সেখানে আমাদের বক্তব্য উপস্থাপন করব।
প্রসঙ্গত, ঢাকা পশ্চিমের ভ্যাট কমিশনারেটের কারণ দর্শানোর নোটিসে বলা হয়েছে, ভ্যাট পরিহারের অভিযোগে মামলার শুনানিতে দুবার শাশা ডেনিমস কর্তৃপক্ষ উপস্থিত না হয়ে সময় বাড়ানোর আবেদন করেছে। কমিশনারেটের কার্যালয় থেকে ৪ অক্টোবর আবারো শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। এদিন কোম্পানি কর্তৃপক্ষ উপস্থিত না হলে নথিপত্র যাচাই করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে