রোনালদোর বিরুদ্ধে আরো তিন তরুণীর ধর্ষণের অভিযোগ!

মঙ্গলবার, অক্টোবর ৯, ২০১৮

স্পোর্টস ডেস্ক : চলতি বছরটা মোটেও ভালো যাচ্ছে না ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর জন্য। অপয়া-ই বলা চলে। বিশ্বকাপে দলের বাজে পারফরম্যান্সের পর ছেড়ে দিলেন প্রিয় ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ। হাতছাড়া হলো ফিফার বর্ষসেরার ফুটবলারের পুরস্কার। সর্বশেষ ধর্ষণের অভিযোগে টালমাটাল সবকিছু।

মার্কিন এক মডেল তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ করেছে। সেই অভিযোগের তদন্তও শুরু হয়েছে।

তদন্ত যখন চলছে তখন উঠে এলো নতুন আরেক তথ্য। তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ তুলে ইতিমধ্যেই হইচই ফেলে দেয়া মার্কিন নারী ক্যাথরিন মায়োরগার আইনজীবী লেসলি স্তোভাল দাবি করেছেন, আরও তিন নারী নাকি রোনালদোর বিরুদ্ধে প্রায় একই রকম অভিযোগ জানিয়ে তাকে ফোন করেছেন।

সেই আইনজীবী আপাতত নতুন সব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করার চেষ্টা করছেন।

নতুন তিন অভিযোগকারীর একজন দাবি করেছেন, তাকেও রোনালদো এক পার্টির পর মায়োরগার মতোই হোটেলে ধর্ষণ করেন।

আরেকজনের দাবি, প্লে-বয় রোনালদোর অস্বাভাবিক ব্যবহারে তিনিও আঘাত পান।

তৃতীয় জন দাবি করেছেন, মায়োরোগার ক্ষেত্রে যেমন হয়েছিল, তার সঙ্গেও তেমনটি করেন রোনালদো। হোটেলে ধর্ষণের পর বর্তমান জুভেন্টাস তারকা প্রচুর অর্থের বিনিময়ে সত্য গোপন করার প্রতিশ্রুতি আদায় করেন। সেটাও ঘটে নাকি ২০০৯ সালে।

মায়োরগা আইনজীবী স্তোভাল বলেন, ‘আপাতত এই ধরনের তথ্যের সত্যতা যাচাই করার চেষ্টা করছি। সেটা করতে পারলে আমার মক্কেলের দাবি আরও জোরদার হবে।’

এর আগে পর্তুগালের তারকা ফরোয়ার্ড রোনালদোর বিরুদ্ধে ২০০৯ সালের এক ঘটনা নিয়ে মার্কিন ওই নারী গুরুত্বর এক অভিযোগ তুলে শেষ পর্যন্ত মামলা করেছেন।

জার্মান ম্যাগাজিন ‘দের স্পিগেল’ সম্প্রতি এক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানেই ক্যাথরিন মায়োরগা রোনালদোর বিপক্ষে ধর্ষণের অভিযোগ আনেন।

মায়োরগা জানান, তাঁর সঙ্গে রোনালদো পরিচয় হয় এক বিখ্যাত নাইটক্লাবে। তখন মায়োরগা ওই নাইটক্লাবে চাকরি করতেন। ২০০৯-এ রোনালদো সেই সময় ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেড ছেড়ে বিশ্বের সবচেয়ে দামি খেলোয়াড় হিসেবে রিয়াল মাদ্রিদে যাওয়ার জন্য পা বাড়িয়েছেন।

সে যাই হোক, একটা সময়ের পর সেই নাইটক্লাবে দুজনের মধ্যে বন্ধুত্ব হয়ে যায়। একপর্যায়ে তাঁকে নিজের হোটেলের ঘরে আসার আমন্ত্রণ জানান সিআরসেভেন। আমন্ত্রণ রক্ষা করতে গিয়েই মহাবিপদে পড়েন মায়োরগা।

দ্য গার্ডিয়ান-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, মায়োরগা বলেছেন, `রোনালদো আমাকে ওঁর গোপনাঙ্গ ৩০ সেকেন্ডের জন্য ধরতে বলে। আমি প্রথম হেসে উড়িয়ে দেই। বলি, তুমি নিশ্চয়ই মজা করছ! রোনাল্ডোর যৌন আবেদনে অনেকে মুগ্ধ। কিন্তু তখন ওঁর ভিতরে থাকা নোংরা মানুষটার পরিচয় পাই।

মায়োরগা বলেন, ও (রোনালদো) আমাকে অ্যানাল সেক্সের প্রস্তাব দেয়! বিপদ বুঝতে পেরে ছাড়া পাওয়ার আশায় আমি বড়জোর চুম্বনে রাজি হই। কিন্তু সে আরও উত্তেজিত হয়ে পড়ে। আমাকে হোটেল রুমে আটকে রাখে ও। একপর্যায়ে জোর করে আমার সঙ্গে সে বিকৃত যৌনতা শুরু করে।

আমি ওর কাছে অনুরোধ করি। কিন্তু ও তখন কোনও কিছু শোনার মতো অবস্থায় ছিল না। ও যেন মত্ত হয়ে উঠেছিল। নির্যাতনের পরও ও আমাকে রুম থেকে বেরোতে দিচ্ছিল না। শেষে অনেক কষ্টে বেরিয়ে আসি। পরদিন থানায় গিয়ে পুলিশে অভিযোগ জানাই।

অবশ্য এবারই প্রথম নয়। বছর দেড়েক আগে এই ম্যাগাজিন আরও একবার মায়োরগার পক্ষ থেকে রোনালদোর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ তোলে। সেবারও সে অভিযোগ ধোপে টেকেনি। আবারও সেই একই অভিযোগ তোলায় রোনালদোর আইনজীবী ম্যাগাজিনের বিপক্ষে আদালতে যাওয়ার হুমকি দিয়েছেন।

সূত্র: জিনিউজ।