ব্রোঞ্জ যুগেও ছিল মাদকের ব্যবসা

মঙ্গলবার, অক্টোবর ৯, ২০১৮

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : প্রাচীন যুগেও মাদকের অস্তিত্ব ছিল। শিল্পীদের কাজে, প্রাচীন পুঁথিতে এত দিন আফিম কিংবা অন্যান্য মাদকের কথা পাওয়া গেছে। কিন্তু এর সঠিক প্রমাণ মেলেনি কখনই।

এবার রাসায়নিক প্রমাণ মিলল প্রাচীন মাদকের। আমেরিকার ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্রিটিশ মিউজিয়ামের বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, সাইপ্রাস থেকে পাওয়া ব্রোঞ্জ যুগের একটি জগে যে তৈলাক্ত তরল মিলেছিল, তা আসলে আফিম-জাত একটি উপাদান।

এই আবিষ্কারের পর প্রত্নতাত্ত্বিকরা ধারণা করছেন, সেই সময় যে মাদকের ব্যবসা চলত, এটা তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে। ভিতরের তরলটিই শুধু যে আফিম-জাত তাই নয়, পাত্রের মুখটিও আফিম ফুল (পপি ফ্লাওয়ার)-এর মতো।

তবে যে তরলটির পরিচয় আবিষ্কৃত হলো, তা নেশা বা চিকিত্সার কাজে ব্যবহারের জন্য নয় বলেও মনে করছেন অনেক বিজ্ঞানীরা।

এটি সম্ভবত বডি অয়েল হিসেবে ব্যবহৃত হতো। জগ এবং এর মধ্যে থাকা তরলটি ১৬৫০ থেকে ১৩৫০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের মধ্যেকার বলে অনুমান করা হচ্ছে।

এছাড়া মরফিন বা আধুনিক পেনকিলার আসার আগে, আফিম ব্যথানাশক হিসেবে খুবই জনপ্রিয় ছিল। প্রাচীন বিভিন্ন নথিতে এর উল্লেখ এসেছে বার বার।

হিপনোস (ঘুম) ও নিক্স (রাত্রি) দুই গ্রিক দেবতাকেও আফিমের বীজের সঙ্গে দেখা গিয়েছে প্রাচীন মূর্তিতে। সাইক্লেড দ্বীপের প্রাচীন মুদ্রায় মিলেছে এই আফিম বীজের অস্তিত্বের কথা। গ্রিক পুরাণে রয়েছে, পেরসেফোনকে অপহরণের পর মা দেমেতারকে ঘুম পাড়াতে ব্যবহার করা হয়েছিল আফিমের।

আফিমের রস খেলে ঘুম হবে, কিন্তু বেশি খেলে কোমায় গিয়ে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে, এমনটা উল্লেখ রয়েছে প্রাচীন গ্রিক চিকিৎসকদের লেখায়।

চিকিৎসাশাস্ত্র সংক্রান্ত ইতিহাসবিদ জন স্কারবরো বলেন, হেমলকের বিশেষ রেসিপি ছিল। কেইওস দ্বীপের বাসিন্দারা নাকি বহুদিন বাঁচতেন হেমলক বা আফিম ব্যবহার করেই।

বাইবেলের ‘প্যাসেজ অব ডেথ’-এ রয়েছে প্রাণঘাতী মাদকের কথা। অল্প ওয়াইনে বিশেষ ধরনের রেজিন মিশিয়ে খাওয়ার কথা বলা হয়েছে নিউ টেস্টামেন্টেও।

তৃতীয় শতকে উত্তর আফ্রিকার তেরতুলিয়ানদের লেখায় মাদক ও ওয়াইনের উল্লেখ রয়েছে। প্রাচীন যুগে ব্যথার উপশমের জন্য ব্যবহার করা হত মদও। তবে আফিম যে ক্ষতি করে, প্রাচীন চিকিৎসকদের অনেকের লেখায় তারও উল্লেখ ছিল।