কমছে আবাদ ও উৎপাদন

বিশ্বব্যাপী তুলা প্রাপ্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে

মঙ্গলবার, অক্টোবর ৯, ২০১৮

ঢাকা:  বিশ্বব্যাপী জনসংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। একই সঙ্গে বাড়ছে মানুষের কাপড়ের চাহিদাও। এ চাহিদা পূরণে দেশে দেশে গার্মেন্ট শিল্প ব্যস্ত সময় পার করছে। বাড়তি কাপড় তৈরির জন্য প্রয়োজন উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সুতা। তবে সুতা তৈরির প্রধান কাঁচামাল তুলার পর্যাপ্ত প্রাপ্তির নিশ্চয়তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ২০১৮-১৯ মৌসুমে বিশ্বব্যাপী তুলার আবাদ কমছে। ফলে মৌসুম শেষে পণ্যটির বৈশ্বিক উৎপাদন ও মজুদ আগের তুলনায় কমে যেতে পারে। এর জের ধরে বাংলাদেশসহ গার্মেন্টঅধ্যুষিত দেশগুলো প্রয়োজনীয় তুলার প্রাপ্তি নিয়ে সমস্যায় পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। খবর এগ্রিমানি ও বিজনেস ইনসাইডার।

তুলার বৈশ্বিক আবাদ ও উৎপাদন পরিস্থিতি নিয়ে সম্প্র্রতি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ইন্টারন্যাশনাল কটন অ্যাডভাইজরি কমিটি (আইসিএসি)। সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৮-১৯ মৌসুমে বিশ্বব্যাপী তুলার আবাদ আগের মৌসুমের তুলনায় ২ শতাংশ কমে যাবে। এ মৌসুমে বিশ্বব্যাপী ৩ কোটি ৩৪ লাখ হেক্টর জমিতে তুলা আবাদ হতে পারে। মূলত জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বৈরী আবহাওয়া, ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগ, ক্ষতিকর কীটপতঙ্গের প্রকোপ বেড়ে যাওয়া, বাজারে দাম না পাওয়া, অন্যান্য ফসল আবাদে অর্থনৈতিক লাভ বেশি থাকাসহ বিভিন্ন কারণে দেশে দেশে তুলাচাষীরা পণ্যটি আবাদে আগ্রহ হারাচ্ছেন বলে আইসিএসির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

আবাদ কমার পাশাপাশি ২০১৮-১৯ মৌসুমে তুলার বৈশ্বিক হেক্টরপ্রতি উৎপাদনেও মন্দাভাবের পূর্বাভাস দিয়েছে আইসিএসি। সংস্থাটির সাম্প্রতিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০১৮-১৯ মৌসুমে তুলার হেক্টরপ্রতি বৈশ্বিক উৎপাদন দাঁড়াতে পারে ৭৭৭ কেজিতে, যা আগের মৌসুমের তুলনায় ১ শতাংশ কম। গত ১০ বছরে তুলার হেক্টরপ্রতি বৈশ্বিক গড় উৎপাদন ছিল ৭৭০ কেজি। সেই হিসাবে, এবারের মৌসুমে বিশ্বব্যাপী প্রতি হেক্টর জমি থেকে গত ১০ বছরের গড়ের সামান্য বেশি তুলা উৎপাদন হতে পারে।

একদিকে আবাদে মন্দাভাব, অন্যদিকে হেক্টরপ্রতি উৎপাদন কমে যাওয়া— এ দুই কারণে ২০১৮-১৯ মৌসুম শেষে স্বাভাবিকভাবেই তুলার বৈশ্বিক উৎপাদনে ঋণাত্মক প্রবণতা বজায় থাকবে। আইসিএসির সাম্প্রতিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০১৮-১৯ মৌসুমে তুলার সম্মিলিত বৈশ্বিক উৎপাদন দাঁড়াতে পারে ২ কোটি ৬০ লাখ টনে, যা আগের মৌসুমের তুলনায় ৪ শতাংশ কম। আবাদ ও উৎপাদন কমলেও ২০১৮-১৯ মৌসুমে তুলার বৈশ্বিক চাহিদায় চাঙ্গাভাব বজায় থাকবে। বাড়তি চাহিদার চাপ সামলাতে প্রধান রফতানিকারক দেশগুলো মজুদ করা তুলা বিক্রি করে দেবে। এর জের ধরে চলতি মৌসুমে তুলার সম্মিলিত বৈশ্বিক মজুদ আগের তুলনায় কমে ১ কোটি ৭২ লাখ টনে দাঁড়াতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি।

এদিকে মার্কিন কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) তথ্য জানাচ্ছে, ২০১৮ সালে বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামে তুলার অভ্যন্তরীণ ব্যবহার রেকর্ড সর্বোচ্চে পৌঁছাতে পারে। এ সময় বিশ্বের শীর্ষ তুলা আমদানিকারক দেশ বাংলাদেশে পণ্যটির ব্যবহার দাঁড়াতে পারে ৮০ লাখ ১০ হাজার বেলে (প্রতি বেলে ৪৮০ পাউন্ড)। ২০১৭ সালে দেশে তুলার অভ্যন্তরীণ চাহিদা ছিল ৭৫ লাখ ১০ হাজার বেল।

অন্যদিকে চলতি বছর শেষে ভিয়েতনামে তুলার ব্যবহার দাঁড়াতে পারে ৭৫ লাখ বেলে, যা আগের বছরের তুলনায় ১৩ দশমিক ৬৪ শতাংশ বেশি। ২০১৭ সালে দেশটিতে মোট ৬৬ লাখ বেল তুলা ব্যবহার হয়েছিল। দুটো দেশের ইতিহাসেই চলতি বছর রেকর্ড সর্বোচ্চ তুলা ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে।

এর বিপরীতে শীর্ষ তুলা উৎপাদনকারী দেশ ভারতে ২০১৮ সালে সব মিলিয়ে ২ কোটি ৮৭ লাখ বেল তুলা উৎপাদনের সম্ভাবনা দেখছে ইউএসডিএ, যা আগের মৌসুমের তুলনায় ১ দশমিক ৩ শতাংশ কম। এতে বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের মতো দেশগুলো প্রয়োজন অনুযায়ী তুলা প্রাপ্তিতে অনিশ্চয়তায় পড়তে পারে।