খাদ্য অধিদপ্তরের ২৮ কর্মচারী বরখাস্ত

মঙ্গলবার, অক্টোবর ৯, ২০১৮

জাল কম্পিউটার সনদ ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়ার পর দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সুপারিশে খাদ্য অধিদপ্তরের ২৮ কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। দুদকের তাৎক্ষণিক অভিযানের পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে জাল সনদ ব্যবহারের তাদেরকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

সোমবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে খাদ্য অধিদফতরে অভিযান চালায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সেই অভিযানে জাল সনদ ব্যবহার করে পদোন্নতির চেষ্টার বিষয়টি প্রমাণিত হলে ওই কর্মচারীদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য।

তিনি বলেন, জাল সনদ ব্যবহার করে খাদ্য অধিদফতরের ২৮ জন কর্মচারী পদোন্নতির চেষ্টা করছে, দুদকের হটলাইন ১০৬-এ এমন খবর আসে। পরে বিষয়টির সত্যতা যাচাই করতে দুদকের টিম খাদ্য অধিদফতরে অভিযান চালায়। দুদকের সহকারী পরিচালক মো. গুলশান আনোয়ার প্রধান ও উপসহকারী পরিচালক মো. সাইদুজ্জামানের সমন্বয়ে একটি টিম অভিযানে অংশ নেয়। সেখানে বিষয়টি প্রমাণিত হলে ওই ২৮ কর্মচারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাদেরকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে খাদ্য অধিদফতর।

অভিযানে দুদক দলটি পদোন্নতিযোগ্য ৩৮ জনের নথি তলব করে দেখে, কারও ব্যক্তিগত নথিতে কম্পিউটার প্রশিক্ষণের অনুমতি নেই। তারপরও তারা প্রত্যেকেই তাদের ব্যক্তিগত ফাইলে বেআইনিভাবে কম্পিউটার প্রশিক্ষণের সনদ যুক্ত করেছেন। পদোন্নতির জন্য তাদের জমা দেওয়া রেকর্ডপত্র যাচাই-বাছাই করার পর ২৮ জনের সনদ জাল মর্মে প্রাথমিকভাবে সত্যতা মেলে।

খাদ্য অধিদপ্তরের এ পদোন্নতির বিষয়ে মঙ্গলবার পদোন্নতি কমিটির সভা থাকলেও দুদকের সুপারিশের ভিত্তিতে তা স্থগিত করা হয়েছে জানিয়ে দুদকের এ কর্মকর্তা বলেন, এসব বিষয়ে অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মো. মাহমুদ হাসানকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

অভিযান প্রসঙ্গে এনফোর্সমেন্ট অভিযানের সমন্বয়কারী দুদক মহাপরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মুনীর চৌধুরী বলেন, সততা ও মূল্যবোধের অভাবে কীভাবে প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হয়ে যায়, এ ঘটনা তার প্রমাণ। দুদক দুর্নীতি ও অবক্ষয় রোধে আরও কঠোর অভিযান চালাবে।