বাগেরহাট-১

আ.লীগের দুর্গে বিএনপির হাফ ডজন সম্ভাব্য প্রার্থী

মঙ্গলবার, অক্টোবর ৯, ২০১৮

আওয়ামী লীগের দুর্গ হিসেবে খ্যাত বাগেরহাট-১ আসনে (চিতলমারী, মোল্লাহাট ও ফকিরহাট) স্বাধীনতার পর থেকে প্রায় সব নির্বাচনেই আওয়ামী লীগ প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংক হিসেবে পরিচিত এ আসন থেকে সপ্তম, নবম ও দশম সংসদ নির্বাচনে জয়ী হন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অষ্টম সংসদ নির্বাচন ও অন্যান্য উপনির্বাচনে নির্বাচিত হন শেখ হাসিনার আপন চাচাতো ভাই শেখ হেলাল উদ্দিন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেখ হাসিনা প্রার্থী না হলে এবারও শেখ হেলাল উদ্দিন প্রার্থী হবেনÑ দলীয় সূত্র থেকে এমনটি জানা গেছে। তবে আওয়ামী লীগের এ দুর্গে নজর রয়েছে বিএনপিরও। ইতোমধ্যে বিএনপি থেকে প্রায় হাফ ডজন নেতা দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার লক্ষ্যে কেন্দ্রে তদবির ও এলাকায় নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন।

বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির উপদেষ্টা শেখ মুজিবর রহমান। তিনি এ আসন থেকে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে পরাজিত হন। ২০০৮ সালে এ আসনে প্রার্থী ছিলেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট ওয়াহিদুজ্জামান দিপু। তৃণমূল নেতাকর্মীদের বিভিন্ন মামলা-মকদ্দমার আইনি লড়াইয়ে তিনি সহযোগিতা করে আসছেন। তিনিও আগামী নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন চাইবেন দলীয় সূত্রে জানা গেছে। অন্যদিকে নবাগত প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপ্রত্যাশী জাসাস কেন্দ্রীয় নেতা ও বাগেরহাট জেলা বিএনপি নেতা মঞ্জুর মোর্শেদ স্বপন। তিনি দীর্ঘদিন ধরেই দলের জন্য নিবেদিতভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। বিএনপি থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে মাঠে সক্রিয় আছেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি প্রকৌশলী মাসুদ রানা। তিনিও দীর্ঘদিন ধরে গণসংযোগসহ তৃণমূল নেতাকর্মীদের আর্থিকভাবে ও মামলার ব্যয়ভার বহনের ক্ষেত্রে সহযোগিতা করে বেশ গ্রহণযোগ্যাতা তৈরি করেছেন। দলীয় নেতাকর্মীদের দুর্দিনে তিনি পাশে থাকায় তার রয়েছে শক্ত অবস্থান। ঢাকা মহানগর (উত্তর) বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ রবিউল আলম অন্য কোনো আসন থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করলে এ আসনে মনোনয়ন চাইতে পারেন বলে দলীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে। এ ছাড়ও জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় নেতা, বাগেরাহাট জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও চিতলমারী উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রুনা গাজীও দলীয় মনোনয়ন চাইবেন বলে শোনা যাচ্ছে।

বিএনপির কয়েকজন তৃণমূল নেতা বলেন, কর্মীদের দুর্দিনে যে নেতা আমাদের বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছেন, তাকেই আমরা প্রার্থী হিসেবে চাইব। তবে দলীয় হাইকমান্ড যাকে মনোনয়ন দেবে তার পক্ষে মাঠে কাজ করবেন বলেও তারা জানান। তাদের বিশ্বাস, যোগ্য ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য প্রার্থী মনোনয়ন দিলে এ আসনে বিএনপি নেতাকর্মীরা একত্রে কাজ করবে। সেক্ষেত্রে নৌকার সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে।

অন্যদিকে চিতলমারী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পীযূষ কান্তি রায় বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলেছে। বাগেরহাটের মানুষ তাকে বারবার ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে।

পীযূষ কান্তি আরও বলেন, বাগেরহাট-১ আসনের অভিভাবক তথা দক্ষিণবঙ্গের উন্নয়নের রূপকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভ্রাতুষ্পুত্র শেখ হেলাল উদ্দীন তার উন্নয়ন কর্মকা- ও ভালোবাসা দিয়ে আওয়ামী লীগের প্রতিটি নেতাকর্মীর মনে জায়গা করে নিয়েছেন। এ আসনে শেখ হেলাল উদ্দীনই হবেন আওয়ামী লীগের প্রার্থীÑ এটা মোটামুটি নিশ্চিত বলা যায়। আর নির্বাচনে তার প্রতিদ্বন্দ্বী যেই হোক না কেন, এ আসন থেকে নৌকার বিজয় কেউ ঠেকাতে পারবে না।আস