শাকিল আহম্মেদ, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি, ০৯ মে (প্রাইম নিউজ বিডি ডটকম) – ঠাকুরগাঁওয়ের রেলক্রসিংগুলো যেন মৃত্যু ফাঁদে পরিণত হয়েছে।
গেট আর গেটম্যানের অভাবে প্রতিদিনই ঝুঁকি নিয়ে শতশত যানবাহন আর পথচারী পারাপর হচ্ছে এই সব ঝুঁকিপুর্ণ রেলক্রসিং দিয়ে।
ঠাকুরগাও সদর এবং পীরগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী ভাতারমাড়ী (জামালপুর) ফার্ম রেলক্রসিং তাদের একটি। যেখানে গত সোমবার ট্রেন ও ট্রাকের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ্যে ৩০ জন গুরুতর আহত হয়। ঠাকুরগাও থেকে পীরগঞ্জ পর্যন্ত মোট ৩০ কিঃমিঃ রাস্তায় ছোট বড় মিলে প্রায় ২০টি রেলক্রসিং রয়েছে। আর তার সবগুলোই অরক্ষিত ও ঝুঁকিপূর্ণ।
রেলক্রসিংয়ে গেটম্যান না থাকার ফলে বছর দুয়েক আগে পীরগঞ্জ থানার সহকারী দারগা জাকির হোসেন ভাকুড়া রেলক্রসিংয়ে ট্রেনের ধাক্কায় মারা যায়। আর এ রকম অরক্ষিত ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে ঠাকুরগাঁওয়ের প্রায় সবকটি রেলক্রসিং।
ঠাকুরগাও-পীরগঞ্জ সড়ক দিয়ে জেলার তিনটি উপজেলার শতশত অভ্যন্তরীন যানবাহন এবং উলেখযোগ্য হারে আন্ত:জেলার মটরগাড়ী চলাচল করে। আর প্রতিনিয়তই ঝুঁকি নিয়েই পথচারী ও যানবাহন পারাপর হতে হয় উন্মুক্ত ঝুঁকিপূর্ণ রেলক্রসিংগুলো দিয়ে।
কিন্তু লেভেলক্রসিংগুলোতে দূর্ঘটনা রোধে রেলওয়ের কোন উদ্যোগই দেখা যাচ্ছে না। ফলে অত্যন্ত ঝুঁকির মধ্যে এসব রেলক্রসিং দিয়ে যানবাহন ও পথচারীকে চলাচল করতে হচ্ছে।
সেলিনা বাসগাড়ীর চালক মনতাজ হোসেন বলেন, যাত্রীদের নিয়ে অনেকটা ঝুঁকির মধ্যেই রেলক্রসিংটি পার হতে হয়, কখন যে কোন দূর্ঘটনা ঘটে বলা মুশকিল। হরিপুর থেকে আসা মটরসাইকেল আরোহী রিয়াজুল ইসলাম জানান ক্রসিংয়ের দু ধারে গাছ গাছড়া থাকায় হেলমেট পরা অবস্থায় ক্রসিং পারের সময় বুঝা যায় না ট্রেন আসছে কি না, এটা খুব ঝুঁকিপূর্ণ তাই ক্রসিংগুলোতে গেট স্থাপন করা একান্ত প্রয়োজন।
রেলক্রসিংগুলোর দু ধারে আখ এবং পাটক্ষেত সেই সাথে ঘনঝোপ ঝাড় হওয়াতে ট্রেন আসা যাওয়ার সংকেত পথচারীরা বুঝতেই পারে না।
অরক্ষিত রেলক্রসিংগুলো এভাবে আরো ব্যাপক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। গেটম্যানতো দুরের কথা রেলক্রসিংগুলোর কোথাও সতর্কতা মূলক সাইনবোর্ড পর্যন্ত নেই।
গ্রামাঞ্চলের ভিতরের রাস্তাগুলো দিন দিন ব্যস্ত হওয়ার কারণে রেলক্রসিংগুলো আরো বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।
সম্ভাব্য দূর্ঘটনা রোধে এখনই অরক্ষিত ও উন্মুক্ত রেলক্রসিংগুলোতে গেট ও গেটম্যান স্থাপনের জন্য রেল কর্তৃপক্ষের নিকট দাবী জানাচ্ছেন এলাকাবাসী।
ঝুকিপূর্ণ রেলক্রসিংগুলো!
এই রিপোর্ট পড়েছেন 1142 - জন









