বাদল সাহা, গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি, ০৯ মে (প্রাইম নিউজ বিডি ডটকম) – গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলা কৃষি বিভাগের ৩ কোটি ২২ লাখ টাকার কাজ স্থানীয় প্রভাবশালীরা ভাগাভাগি করে নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ঝন্টু কুমার সাহার যোগসাজসে কৃষি বিভাগের এই প্রকল্পের বিপুল পরিমান টাকার কাজ ভাগাভাগি করা হয়েছে বলে কয়েকজন ঠিকাদার জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ করেছে।
দরপত্রে অংশ গ্রহন কারী ঠিকাদার মোঃ শাহীন আক্তার, বাবুল শেখ ও মোঃ জাহাঙ্গীর আলম জেলা প্রশাসক বরাবরে লিখিত অভিযোগ করে পুন লটারির আবেদন জানিয়েছেন।
আজ বুধবার সকালে কাশিযানী উপজেলা কৃষি অফিসে এ টেন্ডার ভাগাভাগির ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ পত্রে জানাগেছে, কাশিয়ানী উপজেলার হটিকালচারের একটি বিল্ডিং, সীমানা প্রাচীর ও মাটি ভরাট কাজের ৩ কোটি ২২ লাখ ২৯ হাজার টাকার কাজের দরপত্রে মোট ২২ জন ঠিকাদার দরপত্র ক্রয় করেন। তিনটি গ্রুপে দরপত্র দাখিল করেন ১৭ জন ঠিকাদার।
আজ বুধবার সকাল ১০টায় কাশিয়ানী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয়ে লটারির দিন ধার্য ছিল। কিন্তু উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ঝন্টু কুমার সাহা কতিপয় ঠিকাদারের সাথে যোগসাজস করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রকৌশলী এবং টেন্ডার মুল্যায়ন কমিটির সদস্যদের অনুপস্থিতিতে তড়িঘড়ি করে লটারী করে। শুধুমাত্র যাদের কাজ দেয়া হয়েছে তাদের নিয়ে সাজানো লটারী দেখিয়ে শহীদ কনষ্ট্রাকশন, রেডহার্ট ইন্টারপ্রাইজ ও মেসার্স নজর“ল ইসলামকে কাজ পাইয়ে দেন। কাজ পাইয়ে দেয়ার বিষয়ে তিনি শতকরা ৩ ভাগ টাকা (প্রায় দশ লক্ষ) উৎকোচ গ্রহন করেছেন বলে অভিযোগ করেন ঠিকাদারদরা।
কাশিয়ানী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল লতিফ মোবাইল ফোনে জানিয়েছেন, টেন্ডারে লটারীর অনিয়মের অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত হবে। তবে ওই টেন্ডার মুল্যায়ন কমিটির কোন সদস্য লটারীর সময় উপস্থিত ছিলেন না।
গোপালগঞ্জ কৃষি-সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ভাস্কর চক্রবর্ত্তী জানান, টেন্ডারে লটারীর অনিয়মের বিষয়টি শুনেছি। এ কাজের সাথে আমি যুক্ত নই। বিষয়টি উর্দ্ধতন কতৃপক্ষকে জানানো হবে।
অভিযুক্ত কাশিয়ানী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ঝন্টু কুমার সাহার সাথে মোবাইল ফোন (নং-০১৭১২২৯৮৩৫২ ও টেলিফোনে (নং- ০৬৬৫২৫৬২২৪) বার বার যোগাযোগ করা চেষ্টা করা হলেও তিনি কোন ফোনই রিসিভ করেননি।









