ঢাকা, ৯ মে (প্রাইম নিউজ বিডি ডটকম) –উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এরশাদুল বারীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। ঢাকার মহানগর হাকিম কামরুন্নাহার রুমি আজ বুধবার এ আদেশ দেন।
আগামী ১৪ জুন গ্রেপ্তার পরোয়ানা জারি-সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিলে জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গত ৫ এপ্রিল এরশাদুল বারীকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য দ্বিতীয় দফায় সমন জারি করা হয়েছিল। সমন অনুযায়ী আজ আদালতে হাজির না হওয়ার তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আদেশ দেওয়া হয়।
ইতিহাস বিকৃত করার অভিযোগে করা মামলায় বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আর আই এম আমিনুর রশীদসহ আটজন গত ৫ এপ্রিল জামিন পান।
ওই দিন ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করলে মহানগর হাকিম কামরুন্নাহার রুমি ১০ হাজার টাকা মুচলেকায় একজন আইনজীবীর জিম্মায় তাঁদের জামিনের আবেদন মঞ্জুর করেন।
জামিনপ্রাপ্ত অন্যরা হলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক এম ফরিদ আহমেদ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক কোষাধ্যক্ষ ও ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য রুহুল আমিন আকন্দ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রিন্টিং অ্যান্ড পাবলিকেশন বিভাগের সাবেক পরিচালক এবং বর্তমানে পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের পরিচালক ড. ফজলে আলী, বাংলাদেশ ইসলামিক ইউনিভার্সিটির বিবিএ প্রোগ্রামের চেয়ারম্যান ড. আরশেদ আলী মাতুব্বর, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (উন্মুক্ত বিদ্যালয়) ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. আবদুর রাহীম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এবং উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (উন্মুক্ত বিদ্যালয়) রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সাবেক প্রভাষক মো. কামাল উদ্দিন ও ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের প্রভাষক মো. কুতুব উদ্দিন।
ওই দিন আদালতে হাজির হননি উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এরশাদুল বারী ও সাবেক ডিন প্রফেসর আনছারুজ্জামান।
প্রতারণার মাধ্যমে তথ্য বিকৃত করে পাণ্ডুলিপি প্রকাশের অভিযোগে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আর আই এম আমিনুর রশীদসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে গত ৪ মার্চ মামলা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য হারুন-অর-রশিদ বাদী হয়ে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে এ মামলা করেন।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, বাদী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. শওকত আরা হোসেন প্রণীত উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চমাধ্যমিক শ্রেণীর পৌরনীতি দ্বিতীয় পত্র ২০০০ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়। পরবর্তীকালে আসামিরা পর্যায়ক্রমে দায়িত্ব পালনের সময় পরস্পর যোগসাজশে মূল বইয়ে তাঁদের নাম ব্যবহার করে ও পাণ্ডুলিপির বিকৃতি করে তা পুনঃসংস্করণ বের করেন। এ সময় ওই পাণ্ডুলিপি থেকে ‘বঙ্গবন্ধু’ শব্দটি বাদ দেওয়া হয় এবং মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা অধ্যায়ের স্বাধীনতার ঘোষণাসহ মূল পাণ্ডুলিপির পরিবর্তন ঘটিয়ে ভিন্ন তথ্য সংযোজন করেন।
মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে বইয়ের মূল পাণ্ডুলিপির তথ্য বিকৃতি করার অভিযোগ আনা হয়।









