ঢাকা, ৯ মে (প্রাইম নিউজ বিডি ডটকম) – আন্তঃধর্মীয় বিবাহ এবং পুত্রহীন ব্যক্তির সব সম্পত্তি মেয়ে পাবে বলে সরকার যে আইন করতে যাচ্ছে তা বাতিল না করলে হরতালের মতো কঠোর কর্মসূচি দেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মুফতি ফজলুল হক আমিনী।
বুধবার লালবাগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে এ হুমকি দেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ইসলাম বিরোধী এ আইন বাতিল করার প্রতিবাদে আগামী ১৮ মে শুক্রবার বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটে ইসলামী আইন বাস্তবায়ন কমিটির উদ্যোগে বিক্ষোভ সমাবেশ ও গণমিছিল করা হবে।
তিনি বলেন, “সরকারের মধ্যে ইসলামবিরোধী আইন বাতিল না করলে ইসলামী আইন বাস্তবায়ন কমিটি ১৮ মে পর আরো কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবে।”
কঠোর কর্মসূচি কী আসতে পারে জানতে চাইলে আমিনী বলেন, “নারী উন্নয়ন নীতিমালা জন্য গত বছর ৪ এপ্রিল যেভাবে দেশব্যাপী হরতাল করা হয়েছে এবারো প্রয়োজনে তাই করা হবে।”
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, “হিন্দু-মুসলিমের মধ্যে আন্তঃধর্মীয় বিয়ে সর্বসম্মতিক্রমে ইসলামের দৃষ্টিতে নিষিদ্ধ। এ ধরনের অবৈধ বিয়ে হয়ে থাকলে তা বাতিলের উদ্যোগ নেয়া উচিত। অথচ সরকার সেটি না করে এই বিয়েকে বৈধতা দেয়ার জন্য উল্টো আইন করতে যাচ্ছে।”
তিনি অভিযোগ করে বলেন, “ইসলামবিরোধী আইন করার জন্য এ সরকারকে ক্ষমতায় বসানো হয়েছে। তারই অংশ হিসেবে সরকার এ আইন করতে যাচ্ছে।”
আমিনী বলেন, “এ ধরনের তথাকথিত বিয়ের ফল প্রায় ক্ষেত্রেই ভালো হয় না। এর পরিণতি হয়ে থাকে খুবই খারাপ। তাদের ধর্ম থাকে না। থাকে না নৈতিকতা ও বিশ্বাসের দৃঢতা।”
তিনি বলেন, “পুত্রহীন ব্যক্তির সব সম্পতি মেয়ে পাওয়ার যে বিধান করা হচ্ছে তা ইসলামের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও আল্লাহর আইনের সঙ্গে যুদ্ধ ঘোষণার শামিল।”
সরকারের একের পর এক ইসলামবিরোধী আইন করে যাচ্ছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, “এখন এই সরকারের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত আন্দোলন ছাড়া আলেম সমাজের জন্য আর কোনো রাস্তা খোলা নেই।”
আপনাদের কঠোর কর্মসূচিতে ১৮ দলের সম্পৃক্ত থাকবে কি-না সাংবাদিকরা জানতে চাইলে উত্তরে তিনি বলেন, “১৮ দল সরাসরি সম্পৃক্ত না থাকলেও আমাদের সমর্থন দেবে।”
কওমী মাদ্রাসার জন্য যে কমিশন গঠন করা হয়েছে তার বিরোধিতা করে তিনি বলেন, “সরকারের ঘোষিত এই কমিশন প্রত্যাখ্যান করছি।”
সংবাদ সম্মেলনে মাওলানা নূর হোসাইন কাসেমী, মাওলানা মুহাম্মদ ওয়াক্কাস, মাওলানা আব্দুল লতিফ নেজামীসহ ইসলামী আইন বাস্তবায়ন কমিটির কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।









