স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা, ০৮ মে (প্রাইম নিউজ বিডি ডটকম) –প্রেমের বিয়েতে বিচ্ছেদের হার অনেক বেশি। বিবাহ বিচ্ছেদের একটি মামলার শুনানিকালে ভারতের বোম্বে হাইকোর্ট গতকাল সোমবার এ মন্তব্য করেছেন।
স্ত্রী নীলা (৩৪) এইচআইভি ভাইরাসে আক্রান্ত—এমন অভিযোগ তুলে পারিবারিক আদালতে বিয়ে বিচ্ছেদের আবেদন করেন পুনের প্রতাপ ভোঁসলে (৩৪)। তিনি অন্যায়ভাবে এ আবেদন করেছেন উল্লেখ করে তা খারিজ করে দেন আদালত। গত ৬ এপ্রিল দেওয়া রায়ে স্ত্রীকে তিন লাখ রুপি দিতেও প্রতাপকে নির্দেশ দেন আদালত। প্রতাপ ওই আদেশের বিরুদ্ধে বোম্বাই হাইকোর্টে আপিল করেন।
ওই আপিল আবেদনের শুনানিকালে বিচারপতি পি বি মজুমদার ও বিচারপতি অনুপ মেহতার সমন্বয়ে গঠিত বোম্বে হাইকোর্ট বেঞ্চ বিবাহ বিচ্ছেদ নিয়ে এ মন্তব্য করেন বলে টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়েছে।
আদালতে প্রতাপের আইনজীবী বলেন, নীলা আর্ট কলেজের প্রভাষক। তিনি ৪০ হাজার রুপি বেতন পান এবং তাঁর সরকারি ভবনে থাকেন। আর প্রতাপ স্বাধীন শিল্পী। তাঁর আয়ের সুনির্দিষ্ট উৎস নেই।
প্রতাপের আপিল আবেদনে বলা হয়েছে, ফাইন আর্টসে পড়ার সময় তাঁদের দুজনের পরিচয় এবং ২০০৩ সালের ১৬ মার্চ তাঁরা বিয়ে করেন। বিয়ের পর নীলা যক্ষ্মায় আক্রান্ত হন। শারীরিক সমস্যা দেখা দিলে ২০০৪ সালের দিকে চিকিৎসকের পরামর্শে নীলা এইচআইভির পরীক্ষা করতে মুম্বাইয়ে তাঁর মা-বাবার কাছে যান। নীলা প্রতাপের বাড়িতে ফিরে আসার পর তাঁর মা তাঁকে মন থেকে মেনে নিতে পারেননি। একজন স্বজনের পরামর্শে এই বিচ্ছেদের আবেদন করেন বলে প্রতাপের দাবি।
পারিবারিক আদালত জাতীয় এইডস গবেষণা ইনস্টিটিউটের এক বিজ্ঞানী দিয়ে পরীক্ষা করে নিশ্চিত হন যে নীলা এইচআইভির সংক্রমণে আক্রান্ত নন।
প্রতাপের আইনজীবী বলেন, প্রতাপ এ ঘটনার জন্য ক্ষমা চাইতে এবং তাঁকে ফিরিয়ে নিতে প্রস্তুত ছিলেন। তবে নীলার আইনজীবী বলেন, নীলা আর প্রতাপের সঙ্গে থাকতে চান না। তিনি বলেন, নীলা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।
নীলা আদালতে বলেন, ‘দুজনের সমস্যাগুলো মিটিয়ে ফেলার জন্য প্রতাপ কখনো চেষ্টা করেননি। তাঁর (প্রতাপ) এই আবেগ আসল নয়। আমি অনেক ভুগেছি। এখন মিটমাট করলে প্রতাপ আবার একই রূপ ধরবেন।’
হাইকোর্ট বেঞ্চ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য নীলা ও প্রতাপকে সময় দেন। তবে আদেশে উল্লেখ করেন, ‘আমরা তাঁকে (নীলা) তাঁর সঙ্গে থাকতে বাধ্য করতে পারি না। বিচ্ছেদই একমাত্র সমাধান।’
প্রেমের বিয়েতে বিচ্ছেদ বেশি!
এই রিপোর্ট পড়েছেন 1128 - জন









