আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ঢাকা, ৮ মে (প্রাইম নিউজ বিডি ডটকম) –ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদের জয়কে ‘ইউরোপের জন্য সন্ধিক্ষণ’ হিসেবে বর্ণনা করছেন বিশ্লেষকেরা। একই সঙ্গে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, নতুন প্রেসিডেন্ট ওলাঁদকে পাহাড়সম চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।
ফ্রান্সে সমাজতন্ত্রীদের বিজয় ইউরোপের রাজনীতি ও অর্থনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলবে, এ নিয়ে গতকাল সোমবার বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ইউরোপের বিভিন্ন গণমাধ্যম।
যুক্তরাজ্যের প্রভাবশালী পত্রিকা ইনডিপেনডেন্ট বলেছে, ‘ইউরোপের ঋণসংকট মোকাবিলা এবং বিশ্বময় ফ্রান্স কীভাবে নিজেকে পরিচালিত করবে—সারকোজির পরাজয় এবং ওলাঁদের বিজয়ে এই ইঙ্গিত রয়েছে।’
স্পেনের মধ্য বামপন্থী পত্রিকা এল পাইস বলেছে, ‘ইউরোপে বামপন্থীরা এই মে মাসের ৬ তারিখে ফ্রান্সে পুনর্জন্ম নিয়েছে।’
জাপানের জিজি প্রেস বলেছে, ইউরোপের যেসব দল নিজ দেশে ব্যয় সংকোচন ও অর্থনৈতিক সংস্কার চালুর জন্য চাপ দিচ্ছে, ওলাঁদের এই সাফল্য তাঁদের জন্য অশনিসংকেত।
নির্বাচনে জয়ের পর মধ্য ফ্রান্সের তুলো শহরে দেওয়া এক ভাষণে ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ বলেন, ‘ইউরোপ আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে, অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে উঠতে ব্যয় সংকোচন কোনোভাবেই একমাত্র উপায় হতে পারে না।’ তিনি বলেন, অর্থনীতি পুনর্গঠনে ব্যয় সংকোচনের চেয়ে উত্পাদন বৃদ্ধির বিষয়টি যাতে অগ্রাধিকার পায়, সে লক্ষ্যে তিনি কাজ করবেন।
নির্বাচনের আগে ওলাঁদ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বড় বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং যেসব ব্যক্তি বছরে ১০ লাখ ইউরোর বেশি উপার্জন করেন, তাঁদের ওপর অধিক করারোপ করা হবে। চলতি মাসের শেষের দিকে তিনি প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেবেন।
এদিকে নির্বাচনে পরাজয়ের সব দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন মধ্য ডানপন্থী দল ইউনিয়ন ফর এ পপুলার মুভমেন্টের (ইউএমপি) প্রার্থী নিকোলা সারকোজি। ১৯৮১ সালের পর সারকোজিই প্রথম প্রেসিডেন্ট, যিনি দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হতে ব্যর্থ হলেন।
বিশ্বনেতাদের অভিনন্দন: ওলাঁদের জয়কে স্বাগত জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিট ক্যামেরন, জার্মানির চ্যান্সেলর আঙ্গেলা মেরকেল। ফলাফল ঘোষণার পরই ওবামা নতুন ফরাসি প্রেসিডেন্টকে যুক্তরাষ্ট্র সফরের আমন্ত্রণ জানান। বিবিসি, এএফপি।









