ঢাকা, ২৬ এপ্রিল : বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৈঠক করেছেন ঢাকায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনা। বিএনপির নিখোঁজ নেতা এম ইলিয়াস আলীকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চেয়ারপার্সনের গুলশান কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সন্ধ্যা ৬টায় শুরু হওয়া ৪৫ মিনিট স্থায়ী বৈঠকের বিষয়বস্তু সম্পর্কে কিছুই জানা যায়নি। কোনো পক্ষই এ নিয়ে কথা বলতে রাজি হননি।
বৈঠকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, খালেদার উপদেষ্টা রিয়াজ রহমান, সাবিহ উদ্দিন আহমেদ ও সহসভাপতি শমসের মবিন চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। তবে তারা এ বিষয়ে মুখ খুলছেন না কেউ।
বিরাজমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বৈঠকটি এ নিয়ে সাংবাদিকদের মধ্যে বেশ আগ্রহ থাকলেও বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা না বলেই গাড়িতে উঠে পড়েন রাষ্ট্রদূত। এ দিকে সন্ধ্যার আগেই তারা খালেদার গুলশান কার্যালয়ে ভিড় করেছিলেন।
বিএনপির পক্ষ থেকে খালেদা জিয়ার প্রেস সচিব মারুফ কামাল খানও সাংবাদিকদের ব্রিফ না করা হবে না বলে নিশ্চিত করেন। তিনি শুধু বলেন, এটি দ্বিতীয় দ্বিপাক্ষিক বিষয়।
তবে দলীয় সূত্র জানিয়েছে, খালেদা জিয়া সঙ্গে মজিনার সাক্ষাতে বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক আলোচনার পাশাপাশি ‘নিখোঁজ’ বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীকে নিয়েও আলোচনা হয়েছে। ড্যান মজিনা এর আগে ইলিয়াসের নিখোঁজ হওয়ার ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন।
রোববার থেকে মঙ্গলবার টানা তিন দিন সারাদেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালনের পর বিএনপি শনিবারের মধ্যে ‘নিখোঁজ’ এম ইলিয়াস আলীর সন্ধান পাওয়া না গেলে নতুন করে হরতালের ইঙ্গিত দিয়েছে ইতিমধ্যে। জবাবে ক্ষমতাসীন দল হরতাল না দিয়ে ইলিয়াস সন্ধানে বিরোধী দলের সহায়তা চেয়েছে। এ দিকে মঙ্গলবার গুলশানে নিজ বাসভবনে মজিনা সাংবাদিকদের বলেন, ইলিয়াস আলীর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় তার দেশ উদ্বিগ্ন। বিএনপি নেতাকে খুঁজে পেতে সবাইকে সংযত আচরণের এবং সরকারকে এ বিষয়ে সহযোগিতা করতে বিরোধী দলের প্রতি আহবান জানান তিনি। এই পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় খালেদার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন মজিনা।
গত ১৭ এপ্রিল মধ্যরাত থেকে ইলিয়াস আলী ও তার গাড়িচালক নিখোঁজ রয়েছে। এখনো তাদের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। এ অভিযোগে সে রাতেই থানায় জিডি এবং পরদিন হাই কোর্টে রিট করেন তার স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা। তাকে উদ্ধারে র্যাব ইতিমধ্যে কয়েকটি অভিযান চালালেও তাতে কোনো ফল মেলেনি। ইলিয়াসকে সরকারের কোনো বাহিনী তুলে নিয়ে গেছে বলে খালেদা জিয়া অভিযোগ করেছেন। তবে প্রধানমন্ত্রী তা অস্বীকার করে ঘটনাটিকে বিএনপির সাজানো নাটক হিসাবে মন্তব্য করে আসছেন।









