সর্বশেষ »

তানোর পৌরসভায় বিভিন্ন প্রকল্প দেখিয়ে চলছে লুটপাট, দেখার কেউ নেই

সাইদ সাজু, তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি, ১৮ এপ্রিল (প্রাইম নিউজ বিডি ডটকম) – রাজশাহীর তানোর পৌরবাসীর নাগরিক সুবিধা দেয়ার নামে বিভিন্ন প্রকল্প দেখিয়ে ফ্রি স্টাইলে মেয়রের চলছে ব্যাপক লুটপাট। ফলে, তানোর পৌরসভা এখন দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে।

তানোর পৌরসভার বর্তমান মেয়র ফিরোজ সরকার পৌরসভাটির দায়িত্ব গ্রহণের এক বছরে বিভিন্ন রাস্তা, ড্রেন ও কার্লভাট পুনঃনির্মাণ ও সংস্কারসহ পরিস্কার করার অজুহাতে বিভিন্ন প্রকল্প দেখিয়ে পৌরসভার বিপুল পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ করে বরাদ্দকৃত অর্থ লুটপাট করছেন।

শুধু প্রকল্প দেখিয়ে নয় বর্তমান মেয়র বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে খেলাধুলার নামে অর্থ বরাদ্দ করাসহ ভিক্ষুকদেরকে সাহায্যের নামে পৌরসভার অর্থ বরাদ্দ করে ওই বরাদ্দকৃত অর্থ তোলে আত্মসাৎ করার অভিযোগও রয়েছে।

এভাবে বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থ ও ভিক্ষুকের সাহায্যের অর্থ বর্তমান মেয়র অনিয়ম-দুর্নীতি করে লুটপাট করলেও এসব দেখার বা ব্যবস্থা নেয়ার যেন কেউ নেই।

বর্তমান মেয়রের এসব অনিয়ম নিয়ে ইতোমধ্যে যেসব পত্রিকায় খবর প্রকাশ করা হয়েছে সেসব পত্রিকাতে পৌরসভার কোন বিজ্ঞপ্তি না দেয়ার জন্য ঘোষণাও দিয়েছেন তানোর পৌর মেয়র ফিরোজ সরকার। ফলে মেয়র ফিরোজ সরকারের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন তানোরের কর্মরত সাংবাদিকরা।

শুধু সাংবাদিকরা নয় পৌরসভার কাউন্সিলারদেরকেও সর্তক করে দেয়া হয়েছে। যেসব কাউন্সিলার মেয়র ফিরোজ সরকারের অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে কথা বলবে তাদেরকে কোন প্রকল্প না দেয়াসহ বিভিন্ন সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা করা হবে বলে কাউন্সিলররাও মেয়র ফিরোজ সরকারের কাছে অসহায় হয়ে পড়েছেন।

এ কারণে পৌর মেয়রের এসব অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। এ কারণেই তানোর পৌরসভাটি এখন অনিয়ম ও দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে।

এখানে চলছে ফ্রি স্টাইলে সব কিছুর ব্যাপক লুটপাট। এসব নিয়ে তানোর পৌরসভার কুঠিপাড়া গ্রামের নাগরিক আব্দুর রশিদসহ আরো অনেকে অভিযোগ করে বলেছেন, ফিরোজ সরকার নির্বাচনের সময় বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়ে পৌরবাসির ভোট নিয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব নেয়ার এক বছরে কেবল মাত্র তার গ্রামের নির্মাণকৃত প্রায় আধা কিলোমিটার পাকা রাস্তা সংস্কার করে প্রায় ৩৬ লাখ টাকা অপব্যয় করেছেন।

তিনি জানান, এত টাকা ব্যয়ে প্রায় এক কিলোমিটার পাকা রাস্তা নির্মাণ করা যেত। কিন্তু পৌর মেয়র নির্মাণকৃত পাকা রাস্তাকে সংস্কার করে কাগজে কলমে পুনঃনির্মাণ দেখিয়ে প্রকল্পটির প্রায় দ্বিগুন টাকা লুটপাট করেছেন।

মেয়র তার প্রতিশ্রুতির কোন নাগরিক সুবিধা দিতে না পারলেও পৌরবাসীদেরকে বেকায়দায় ফেলে ইচ্ছেমত পৌর কর (ট্যাক্স) পরিশোধ না করা পর্যন্ত নাগরিকত্ব সনদপত্রসহ কোন প্রকার সার্টিফিকেট প্রদান করছেন না।

সেই সাথে পৌরবাসীর কাছ থেকে ধাপে ধাপে বিভিন্ন অজুহাতে আদায় করা হচ্ছে টাকা। এসবের মধ্যে নাগরিক ও চারিত্রিক সনদপত্রের জন্য ১০ টাকা, ওয়ারিশেন সার্টিফিকেট নিতে ৩০ টাকা, জন্মনিবন্ধন সনদপত্র নিতে ৫০ টাকাসহ পৌরসভার প্রতিটি কাজেই পৌরবাসীর কাছ থেকে ভিন্ন কৌশলে টাকা আদায় করা হচ্ছে। অথচ পৌরসভা গঠণের পর থেকেই কোন মেয়র পৌরবাসীর কাছ থেকে এ ধরনের সনদপত্র দিয়ে টাকা আদায় করেন নি।

সেই সাথে ব্যবসায়ীদের ট্রেড লাইসেন্স নিতে পূর্বের নিয়মের ১০০ টাকা স্থলে বর্তমান মেয়র ৫০০ টাকা আদায় করছেন। তারপরও ট্রেড লাইসেন্স নেয়ার জন্য আবেদন ফর্ম বাবদ ২০ টাকা আদায় করা হচ্ছে।

পৌরবাসী নাগরিক সুবিধা না পাওয়ার পাশাপাশি পৌরসভায় কোন কাজে মেয়রের কাছে গিয়েও মেয়র ফিরোজ সরকারের কাছে সদচারনের পরিবর্তে তার দুর্ব্যবহারের কারণে পৌরবাসির মধ্যে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। ধাপে ধাপে পৌরবাসীর কাছ থেকে টাকা আদায় করাসহ পৌর মেয়রের এসব আচরণের কারণে পৌরবাসী এখন পৌরসভা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। মেয়র হিসাবে ফিরোজ সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে তানোর পৌরবাসিকে জিম্মি করে ইচ্ছে মত ধাপে ধাপে টাকা আদায় করছেন। তার এসব দাবিকৃত টাকা দিতে নাগরিকরা সময় চাইলে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে পৌরসভা থেকে তাড়িয়ে দিচ্ছেন।

বকেয়া পৌর ট্যাক্সের টাকা আদায় না হওয়া পর্যন্ত নাগরিকদের জুরুরি কোন ধরণের সনদপত্র দেয়া হচ্ছে না। ফলে, পৌরসভার কাউন্সিলারসহ সেবা নিতে আসা নাগরিকদের সাথে পৌর মেয়রের প্রায় প্রতিদিনই বাগবিতন্ডার ঘটনা ঘটছে। পৌরসভার মেয়র নির্দ্বিধায় ইচ্ছে মত অনিয়ম-দুর্নীতি করে আসলেও এসব যেন দেখার বা প্রতিবাদ করার কেউ নেই।

অপরদিকে, নাম না প্রকাশে নিচ্ছুক সিন্দুকাই আদিবাসিপল্লীর এক ব্যক্তি জানান, তানোর পৌরসভা সদর থেকে মাত্র আধা কিলোমিটার দূরত্ব সিন্দুকাই আদিবাসী গ্রাম। গ্রামটির পাশ দিয়ে পিডিবি বিদ্যুৎ সংযোগ গেছে যার দূরত্ব মাত্র ৫০ গজ। ৪৫টি আদিবাসী পরিবারের চলাচলের জন্য কোন রাস্তা তৈরি হয়নি, এখনও বিদ্যুৎ ও শিক্ষার আলো পৌঁছায়নি গ্রামটিতে। হতদরিদ্র এই পরিবারগুলোর অভিযোগ মেয়র ফিরোজ সরকার তাদের আদিবাসিপল্লীটির রাস্তা ও বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত করার আশ্বাসের বাণী ভোট নিয়েছেন। মেয়র তাদের ভোট নিয়ে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। পৌর অফিসে রাস্তার দাবিতে মেয়রের কাছে গেলে অসৌজন্য মূলক আচরণ করে তাদের তাড়িয়ে দেন।

একটি রাস্তার অভাবে জমির সরু আইল দিয়ে তাদের প্রতিনিয়ত যাতায়ত করতে হয়। কেউ অসুস্থ্য হয়ে পড়লে কাঁধে করে রোগীকে আধা কিলোমিটার পর্যন্ত নিয়ে আসতে হয় মূল রাস্তায়। অথচ পৌরসভার মেয়র দামি চেয়ারে বসে শাসক ও শোষনের ভয়ংকর রূপ দেখান। তাদের কোন কথায় কান দেন না মেয়র।

এছাড়া নাগরিকরা আরো জানান, পৌরসভায় কোন কিছু নিতে গেলে টাকা ছাড়া কোন কিছুই পাওয়া যাচ্ছে না। নাগরিক সুবিধার কোন ছোঁয়া না লাগলেও আমাদের কাছ থেকে বেকায়দায় ফেলে ট্যা· আদায় করছেন।

তিনি আরো বলেন, পৌর মেয়র ওই পল্লীর প্রায় সকলেই অল্প ও আধা শিক্ষিত সেই সাথে অনেকই রয়েছেন উচ্চ শিক্ষিত।

সন্ধ্যার পর চারিদিক অন্ধকার। তথ্য প্রযুক্তির যুগে পৌরসভার কোথাও আধুনিকতার ছোঁয়া এখনো লাগেনি। রা¯—ার আলোকিত লাইটের আলো না জ্বললেও প্রতিমাসে লাইট মেরামতের নামে অর্থ লুটপাট করা হয়।

এ ব্যাপারে তানোর পৌরসভার মেয়র ফিরোজ সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, পৌরসভায় যা কিছু করা হয় রেজুলেশন করেই করা হচ্ছে। এসব তথ্য জানতে হলে অফিসে আসতে হবে বলে তিনি রাগান্বিত ও উত্তেজিত কন্ঠে আরো বলেন, তার অনিয়ম নিয়ে পত্রিকায় যত খুশি লেখার আছে আপনারা সাংবাদিক লিখেন।

পরিশেষে তিনি আরো বলেন, তিনি বিএনপি করেন উপর মহলের নির্দেশ আছে আ.লীগ ছাপটের পত্রিকায় পৌরসভার কোন বিজ্ঞপ্তি দেয়া যাবে না। পত্রিকায় লিখে কিছু হয় না তার ভিট খুবই শক্ত।

 এই রিপোর্ট পড়েছেন  1124 - জন
 রিপোর্ট »বুধবার, ১৮ এপ্রিল , ২০১২. সময়-৬:৩৪ pm | বাংলা- 5 Boishakh 1419
রিপোর্ট শেয়ার করুন  »
Share on Facebook!Digg this!Add to del.icio.us!Stumble this!Add to Techorati!Seed Newsvine!Reddit!

Leave a Reply

3 + 0 =  

| | | | | | | | | |
Copyright@All Right Reserved.> Editor: Gias uddin Mamun, 60 Bara Mogh Bazar,Dhaka 1217.Bangladesh. # (বাংলায় লেখা হলে ইউনিকোডে পরিবর্তন করে ই-মেইল করুন) phone: 8801715990853, 8801534311099, 88028353669 #
☼ ডিজাইন প্রাইম নিউজ বিডি কর্তৃক সংরক্ষিত primenews27@gmail.com  »
GO TOP